প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৯
সুনামগঞ্জ পৌর শহরে যানজট ও ফুটপাত দখলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। সড়কে ফল ও সবজির দোকান, যত্রতত্র স্ট্যান্ড এবং নিবন্ধনহীন অটোরিকশা—ইজিবাইকের কারণে ব্যস্ত এলাকাগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। তবে একদিনের অভিযানেই কি স্থায়ীভাবে যানজট ও দখলমুক্ত রাখা সম্ভব? ফুটপাত দখলকারীদের পুনর্বাসন এবং অটোরিকশা—ইজিবাইকের জন্য নির্ধারিত জায়গা তৈরির পরিকল্পনাই বা কী? এসব বিষয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর—এর বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’তে কথা বলেছেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম কয়েছ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: একদিন অভিযান চালানোর পর আবার যাতে ফুটপাত দখল না হয়, সে জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
আশরাফুল ইসলাম কয়েছ: উচ্ছেদ অভিযান পৌরসভার নিয়মিত কার্যক্রম। তবে এবার স্থায়ী সমাধানের জন্য পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নির্দিষ্ট লোক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতে নিয়মিত নজরদারি করা হবে, যাতে উচ্ছেদ করা জায়গায় আবার হকার বসতে না পারে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অভিযানে কী ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
আশরাফুল ইসলাম কয়েছ: নিবন্ধনহীন অটোরিকশা ও ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী দোকানের সামনে ভাড়া দিয়ে ফুটপাত দখল করে ফলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির বিষয়ও পাওয়া গেছে। অভিযানে ১৮টি মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অটোরিকশা—ইজিবাইকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শুধু অভিযান নয়, যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড তৈরির কোনো পরিকল্পনা আছে?
আশরাফুল ইসলাম কয়েছ: পৌর শহরের ভেতরে বড় কোনো স্থায়ী স্ট্যান্ড করার মতো জায়গা নেই। তবে শহরের প্রবেশমুখে পৌরসভার জায়গায় কিছু ‘পকেট স্ট্যান্ড’ তৈরি করে যানবাহন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে মালিক—শ্রমিক, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নাগরিক ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা ফল ও সবজি বিক্রেতাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কী?
আশরাফুল ইসলাম কয়েছ: পৌরসভার কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজার রয়েছে। তাদের সেখানে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। বাজারটি আধুনিকায়নের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কাজ বাস্তবায়নের পর উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের সেখানে পুনর্বাসনের চিন্তা রয়েছে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অবৈধ অটোরিকশা ও ফুটপাত দখলকারীদের প্রতি আপনার বার্তা কী?
আশরাফুল ইসলাম কয়েছ: অবৈধ রিকশা—অটোরিকশা নিয়ে পৌর শহরে না আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রথমবার জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হলেও পুনরায় আটক হলে ব্যাটারি জব্দ ও যানবাহন ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত বাজারে গিয়ে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন