প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩২
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের যানজট নিরসন ও সড়ক—ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পৌরসভার চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে জব্দ করা অটো—রিকশা ও রিকশার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরিমানা পরিশোধের পর এসব যানবাহন ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানো হলেও শর্ত দেওয়া হয়েছে— লাইসেন্সবিহীন অটো—রিকশা বা রিকশা পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আর চালানো যাবে না।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভা ভবনের সামনে জড়ো হন প্রায় ৭০ জন চালক। এ সময় জব্দ করা যানবাহন ছাড়ার বিষয়ে পৌর প্রশাসনের সঙ্গে চালকদের আলোচনা হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, অভিযানে জব্দ করা ২০টি অটোরিকশা ও ৫০টি রিকশার বিষয়ে জরিমানা আদায়ের পর ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এসব যানবাহন পৌর শহরের আলফাত স্কয়ার ও এর আশপাশের এলাকায় চলাচল না করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভা ভবনের সামনে চালকদের সঙ্গে আলোচনায় পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু একদিন অভিযান চালিয়ে থেমে গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এজন্য নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পৌর শহরে চলাচলকারী অনিবন্ধিত ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিষয়ে আগেই মাইকিং করে চালকদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও যেসব যানবাহন নিয়ম না মেনে শহরে চলাচল করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পৌর প্রশাসক বলেন, অভিযানে জব্দ করা অন্যান্য মালামাল নষ্ট করার উদ্দেশ্য পৌরসভার নেই। কোনো দরিদ্র ব্যবসায়ী সীমিত পরিমাণ পণ্য নিয়ে বসলে মানবিক বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তবে একই ব্যক্তি নিয়মিতভাবে বিপুল পরিমাণ পণ্য নিয়ে সড়ক দখল করে ব্যবসা করলে এর পেছনে অন্য কোনো ব্যবসায়ী বা বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারিত রয়েছে। শহরে নিবন্ধনের বাইরে কোনো যানবাহন পাওয়া গেলে তা জব্দ করা হবে।
এদিকে জেলা ইজিবাইক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পৌরসভায় নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩০০। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় নষ্ট থাকা বা মেরামতের জন্য দুই থেকে তিনশ যানবাহন গ্যারেজে পড়ে থাকে। ফলে শহরে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা নিবন্ধিত সংখ্যার চেয়ে কম থাকে বলে দাবি করেন তারা।
সমিতির নেতারা বলেন, পৌরসভার নিবন্ধনের বাইরে কোনো অটো—রিকশা শহরে চলাচল করলে সেটি জব্দ করার ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না। তবে নিবন্ধিত ও বৈধ যানবাহনের চালকদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান তারা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন