প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৬
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে। দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল সাড় ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেন, সাক্ষরতা এখন আর কেবল পড়া ও লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডিজিটাল দক্ষতা, গণমাধ্যম সচেতনতা ও জীবনমুখী শিক্ষার দক্ষতাও এর অন্তর্ভুক্ত।
জেলা ও জাতীয় সাক্ষরতার হারের ব্যবধান তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে জাতীয় সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৭.৯ শতাংশ হলেও সুনামগঞ্জে তা প্রায় ৬৫ শতাংশ। সুনামগঞ্জের হাওর ও দুর্গম অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় বাস্তবতা বিবেচনায় এখানে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ জরুরি। এই আলোচনায় উঠে আসা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাগুলো একীভূত করে সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ পড়া ও লেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোন খাতে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে নজর দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান বলেন, দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার আলোয় ফেরাতে দক্ষতাভিত্তিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে প্রযুক্তিগত সাক্ষরতার বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে শুধু সরকারি বা এনজিও উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি মানুষকে অন্তত একজন অশিক্ষিত ব্যক্তিকে সাক্ষর করার দায়িত্ব নিতে হবে।
আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন