খাল যেখানে নালা

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৩ ০৮:৫১

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত ওয়েজখালি। এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম ওয়েজখালি খাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখল করে গড়ে উঠেছে বাসা-বাড়ি, দোকানকোঠা, একাধিক সড়ক সহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। এতে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।
জানা গেছে, খাল দখলকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। দখলের কারণে খালটি সরু হয়ে যাওয়ায় ময়লা আবর্জনা আটকে ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন হয় না। সামান্য বৃষ্টিতে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়েজখালি, গণিপুর, কালিপুর এবং হাসনবসত গ্রামের বড় একটি অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওয়েজখালি পুলিশ লাইন্স মসজিদের পাশ থেকে শুরু হয়ে ওয়েজখালি-গণিপুর গ্রামের সড়ক ঘেঁষে  শিয়ালমারা হাওরে গিয়ে মিশেছে একটি খাল। খালের অপর একটি নালা কালিপুর গ্রামের সড়ক ঘেঁষে জাওয়ার হাওরে গিয়ে মিশেছে। এক সময় খালটির প্রস্থ ছিল প্রায় ৫০-৬০ ফুট এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। তখন খালে পণ্য বোঝাই নৌকা সহ ছোট বড় অসংখ্য নৌকা চলাচল করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে দখল হয়ে যাওয়ায় খালটি নালাতে পরিণত হয়েছে। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়েজখালি অংশে পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন খালের উপর নির্মাণ করা হয়েছে দোকানকোঠা, কিচেন মার্কেট, বাসা বাড়ি সহ চলাচলের সড়ক। শুধু ওয়েজখালি অংশে কেউ রাস্তা নির্মাণ, কেউ কেউ বাসা, দোকানকোঠা নির্মাণ সহ বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। ওয়েজখালির শেষ প্রান্তে কালভার্টের পাশে ৭-৮টি পরিবার অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে।
ওয়েজখালি এলাকার প্রবীণ মুরুব্বি মকবুল হোসেন বলেন, এক সময় এই খালে নৌকা চলাচল করত, পানি প্রবাহ ছিল। কিন্তু এখন সেই অবস্থা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন, পরেন্দ্র কুমার দাস সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজন জানান, ওয়েজখালি  খাল দখল হয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ওয়েজখালি, গণিপুর গ্রামের সড়কে  জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তারা আরও জানান, খাল যারা দখল করেছে তারা কোনও সাধারণ মানুষ নন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি। খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে ৫০-৬০ প্রস্থের ফুটের খালটি এখন কোথাও ৪-৬ ফুট আবার কোথাও ৩-৪ ফুটে এসে নেমেছে। এসময় তারা খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে খাল পুনরুদ্ধারে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভিন জানান, আমরা শহরের ৫টি খাল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছি। এই কাজটি সম্পন্ন করার পর শহরের ওয়েজখালি এলাকার খালও পুনরুদ্ধার করা হবে।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার