দিরাইয়ে স্বপ্নের সড়ক/কাজের মান নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল, ২০২৪ ০৫:৫৫

গোবিন্দপুর, ধীতপুর, নগদীপুর, হোসেনপুর, খাউয়াজুড়ি, দৌলতপুর, সিকন্দরপুর, নূরপুর, কামরিবীজ, উপতিরপাড়, দুর্লভপুর, ফুকিডর ও হলিমপুরসহ প্রায় পনেরোটি গ্রাম। দিরাই, জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার ২০ সহ¯্রাধিক মানুষ বসবাস করেন এই গ্রামগুলোতে। বর্ষাকালে এসব গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র বাহন নৌকা হলেও হেমন্তে চলাচলের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে টানাখালী বাজার (রজনীগঞ্জ বাজার) থেকে হোসেনপুর বাজারের সড়ক। গ্রামীণ এ মেঠোপথে চলাচল করেন তিন উপজেলার এসব গ্রামের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, গর্ভবতী মহিলাসহ অন্যান্য রোগী, বৃদ্ধ—বৃদ্ধা, নারী—শিশুসহ সব শ্রেণি পেশার বিশ হাজারেরও বেশি মানুষ। অর্ধেক মাটি, অর্ধেক ইট সলিং করা রাস্তা দিয়ে কষ্টে—সৃষ্টে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছিলেন এসব গ্রামের বিশাল এই জনগোষ্ঠী। ভাঙা, গর্ত করা এই রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করছিলেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। মোটরসাইকেল চালক থেকে শুরু করে সকলের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো রাস্তাটি যেনো পাকা করা হয়। বিশিষ্ট পার্লামেন্টেরিয়ান সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সংসদ সদস্য থাকাকালীন এই সড়ক নির্মাণের জোর দাবি ছিলো এলাকাবাসীর। যে কোনো নির্বাচন এলে সড়ক নির্মাণ করে দেওয়ার টোপ দিয়ে এসব গ্রাম থেকে ভোট আদায় করে নেন ‘কথার ব্যাপারী’ রাজনীতিবিদেরা। সস্তা কথায় সরলে বিশ্বাসে ভোট দিয়ে বার বার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেন এসব গ্রামবামী। সময় সময়ের পথে গড়ায়, মেঠোপথের বাঁকে বাঁকে হারিয়ে যায় পাকা সড়কের ঠোনকো স্বপ্ন, কথার বরখেলাপ করেন কথাবাজ রাজনীতিবিদেরা। টানাখালী থেকে হোসেনপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটারের মেঠো পথ আর পাকা হয় না। অপেক্ষা শুরু হয় নতুন কোনো এক নির্বাচনের। অবশেষে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে রাস্তাটির ইট সলিং—এর কাজ।
সূত্র জানায়, টানাখালী বা রজনীগঞ্জ বাজার থেকে ধীতপুর হয়ে দুই কিলোমিটার পথে দুই স্তরে বসানো হবে ইট। ৩ মিটার বা ১০ ফুট পরিমাণ প্রস্থ হবে সড়কটি। নির্মাণ কাজের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। রাস্তার পাশে হাওরের ভিতরে অংশে প্রোটেক্টিভ ওয়াল করা হবে। 
গোবিন্দপুরের বাসিন্দা হিরন সরদার, সমীর তালুকদার, রনি তালুকদার, দুর্লভপুরের বাসিন্দা মাজেদুল হক, ধীতপুরের বাসিন্দা আবদুর রইছ ও শাহিদ মিয়া বলেন, রাস্তার পাশ থেকে মাটি তোলায় আমরা অবাক হয়েছি। ধীতপুর পশ্চিমপাড়া স্লুইট গেটের পশ্চিম পাশ থেকে গোবিন্দপুর কালাচাঁন গাছ মন্দির পর্যন্ত রাস্তার পাশ থেকে মাটি তুলেছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আশার পর আমরা সবাই মিলে প্রতিবাদ করেছি। ৩ দিন মাটির কাজ বন্ধ ছিলো। ইঞ্জিনিয়ার এসে ভালো কাজের আশ্বাস দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করেছেন। আমরা আশা করছি উপজেলা প্রকৌশলী বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবেন।
এদিকে আরেকটি ভয়ঙ্কর কাজ করছেন ঠিকাদার। রাস্তায় থাকা পুরোনো ইট ও ব্লক ব্যবহার করে গার্ড ওয়াল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা এসব কাজের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আগেই ভালো ছিলো। কাজের শুরুতেই যদি এতো অনিয়ম হয়, তাহলে পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরু হলে তো দুর্নীতির মহোৎসব হবে। এদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ধীতপুর গ্রামের বাসিন্দা লিলু শাহ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই রাস্তা নির্মাণের জন্য যে টাকা দিয়েছেন ঠিকাদার সেই টাকার যথাযথ ব্যবহার করছেন না। টাকা সঠিক জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে না। রাস্তার গোড়া থেকে মাটি এনে রাস্তার মাটি দিয়েই রাস্তা তৈরি করছে। সামান্য বৃষ্টি দিলেই সড়ক ধ্বসে যাবে। যেভাবে কাজ করছে ৩ মাসও সড়কটি ব্যবহার করা যাবে না।
করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন দাস বলেন, কাজের ব্যাপারে আমি জানি। কিছু মানুষ আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। রাস্তার পাশ থেকে মাটি তোলা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আমি স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। আজ (মঙ্গলবার) স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের সাথে আলাপ করবো। ইউএনও স্যার ও ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের সাথে কথা বলে ভালো মানের কাজ নিশ্চিত করবো। রাস্তার কাজের প্রতি আমার নজরদারি থাকবে। রাস্তার কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ওয়ার্ডের (৩নং ওয়ার্ড) ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সেকুল ইসলাম।
দিরাই উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইফতেখার হোসেন বললেন, এটি হেরিং বন্ড রাস্তা। যদিও এক বছর সময় আমাদের হাতে আছে তবুও আমরা চেষ্টা করবো ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার। আপাতত মাটির কাজ হচ্ছে। পরে দুই স্তরে ইট বসানো হবে। হাওরের ভিতরের অংশে প্রোটেক্টিভ ওয়াল দেওয়া হবে। মাটির কাজে কিছূটা অনিয়ম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি আমার নলেজে আছে। সড়কের পাশ থেকে মাটি তোলাটা আশঙ্কাজনক। যে কোনো সময় সড়ক ধ্বসের শঙ্কা রয়েছে। আমি ঠিকাদারকে বলেছি, এভাবে মাটি না নিতে। অন্য জায়গা থেকে মাটি এনে কাজ করতে হবে। আমাদের নিজস্ব লোকজন তদারকিতে আছে। কোনো অনিয়মকে আমি কোনভাবেই প্রশ্রয় দেবো না। 
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার