ধান দিয়ে পণ্য

প্রকাশিত: ০৪ মে, ২০২৪ ০০:০৬

টাকা ছাড়াই শুধু পণ্য বিনিময় করে মিলছে শাকসবজিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। সারাদিন ভ্যান গাড়িতে পণ্য ফেরি করে বিনিময় করছেন বিক্রেতারা। অনেকে অস্থায়ী দোকানঘর তৈরি করেছেন। প্রতিবছরই এমনই ব্যতিক্রমী ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকান বসে জেলাজুড়ে। বৈশাখের শুরু থেকে হাওরাঞ্চলে ধানের বিনিময়ে টমেটো, শসা, ঝিঙা, আলুসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি হয়। শুধু সবজি নয়, আইসক্রিম, গরম গরম জিলাপিও বিক্রি হচ্ছে। পুরো বৈশাখ মাসেই চলবে এমন আয়োজন।
একজন বিক্রেতার কাছে ফলমূল—সবজি আছে, কিন্তু ধান নেই। আবার ক্রেতাদের কাছে ধানের মজুদ রয়েছে, সবজি নেই। আবার কারও জিলাপি খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু টাকা নেই, এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতা ও বিক্রেতার টাকা ছাড়া লেনদেনই হলো পণ্য বিনিময়।
হাওরে ভালো ধান হলে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তখন নির্দিষ্ট সময়ে এরকম লেনদেনের পরিমাণ বাড়ে। জেলায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানে ধনী এই জেলার মানুষ। আর তাইতো প্রতিটি ধানের খলায় এমন পণ্য বিনিময়ের আয়োজন। 
বছরের এই সময়ে দম ফেলার ফুসরত নেই কৃষকের। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাজারে যাওয়ার সময়টুকু নেই তাদের। সারাদিন ধানের খলায়, মাড়াই, ছিটা ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় এরকম ধানের বিনিময়ে পণ্য পাওয়ায় খুশী তারা। তবে হাওরে ধান কাটা ও মাড়াই শেষ। ধান খলায় শুকিয়ে সিংহভাগ কৃষকের গোলায় তোলার কাজও শেষ। 
সম্প্রতি তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরের পাড়ের একটি ধানের খলায় আলাপ হয় বিক্রেতা গণি মিয়ার সঙ্গে। তিনি একটি ভ্যানগাড়িতে শুটকি, সিদল, আলু, টমেটো, শসা, ঝিঙা, পেঁয়াজ, রসুনসহ আরও নানা জাতের সবজি বিক্রি করছিলেন। 
তিনি বলেন, ১ কেজি ধানে ১ কেজি টমেটো, ২ কেজি ধানে ১ কেজি কাঁচামরিচ, একই দরে ১ কেজি চিচিঙা, ১ কেজি ধানে ১ কেজি ঢেঁড়স, ১ কেজি ধানে ৫০ গ্রাম সিদল ও ৩ কেজি ধানে ১ কেজি আলু বিক্রি করছেন। 
তিনি আরও বলেন, বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই তিনি ভ্যানে করে শাকসবজি বিক্রি করছেন। যেখানে ধানের খলা, সেখানেই তার ভ্যান যায়। কৃষক—কৃষাণীরা তার কাছ থেকে ধানের বিনিময়ে এসব জিনিস নেন। এছাড়াও অনেকে টাকা দিয়েও শাকসবজি কিনেন তার কাছ থেকে।
ঝালমুড়ি ও আইসক্রিম বিক্রেতা সুহেল মিয়া জানান, প্রতি কেজি ধান ২০ টাকা দরে রেখে আইসক্রিম ও ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন তিনি। এভাবে প্রতিদিন সবোর্চ্চ ২ মণ ধান সংগ্রহ করতে পারেন তিনি।
বড়দল গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. আকরামিন মিয়া বলেন, আমরা বৈশাখে ধান দিয়েই মাছ, শাকসবজি কিনে থাকি। সবাই হাওরে ও ধানের খলায় কাজ করছে। বাজারে যাওয়ার সময় নাই। এসব ভ্রাম্যমাণ দোকান বাড়ির কাছে ধানের খলায় আসায় আমাদের সুবিধা হয়। ধান চাল তো ঘরেই আছে। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তাদের কাছ থেকে ধান দিয়ে নিয়ে নিই।
খলার পাশে অস্থায়ী দোকান করে গরম গরম জিলাপি বিক্রেতা মো. মাসুক মিয়া বলেন, ১২ থেকে ১৫ কেজি ধানের বিনিময়ে এক কেজি গরম গরম জিলাপি বিক্রি করি। ধান ভালো হলে ১২ কেজি আর একটু কম শুকানো হলে ১৫ কেজি ধান রেখে ১ কেজি জিলাপি দিচ্ছি।
তিনি জানান, প্রতিবছর বৈশাখে এক মাসের জন্য এরকম অস্থায়ী দোকান ঘর দিয়ে জিলাপি বিক্রি করেন তিনি। প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ মণ ধান সংগ্রহ করতে পারেন তিনি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার