প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৩ ০৭:৪৫
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল জেলার ২৫ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রথম ও শেষ ভরসা। যে কোন অসুস্থতায় সেবা নিতে মানুষ হাসপাতালে আসেন। তবে সেই হাসপাতালই যদি বিভিন্ন রোগে ভোগে অসুস্থ থাকে, তবে মানুষ কীভাবে হাসপাতাল থেকে কাক্সিক্ষত সেবাটুকু পাবে। ওষুধ, ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট, জনবল সংকটসহ নানা রোগে ভুগছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নব নির্মিত আইসিউ ইউনিটের। গণপূর্ত বিভাগের তত্বাবধানে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে দশ শয্যা বিশিষ্ট আইসিউ নির্মাণ ও হস্তান্তর কাজ সম্পন্ন হলেও ডাক্তার এবং পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে শুরু করা যাচ্ছে না এই ইউনিটের কার্যক্রম। এমন অবস্থায় হাসপাতালে এসে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের দেয়া তথ্যমতে, হাসপাতালে ৬৬ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৩১ জন। বাকি অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৩৫ ডাক্তারের পদ খালি। মেডিসিন, অর্থোপেডিক্স ও শিশু বিভাগে কেবল ছয় পদের ৬ জন ডাক্তারই আছেন। তবে সার্জারী, গাইনী, নাক কান গলা, বিভাগের দুই জন করে পদ থাকলেও হাসপাতালে আছেন ১ জন করে ডাক্তার। চর্মরোগ, ডেন্টাল সার্জন ও ফিজিশিয়ান বিভাগেও ১ জন। সবচেয়ে বেশি পদশূন্য মেডিকেল অফিসার পদে। ৩২ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ১৬ জন। এছাড়াও হাসপাতালের বিভিন্ন কাজ সামলানোর জন্য ৩৭ জন কর্মচারির পদ থাকলেও আছেন ২০ জন। রোগ নির্ণয় করার জন্য স্থাপিত ল্যাবে ৪ জনের স্থলে কাজ করছেন ৩ জন। এক্সরে যন্ত্র বিকল হয়ে ১ মাস যাবৎ এক্সরে করা বন্ধ আছে।
শহরের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বললেন, হাসপাতালে সামান্য অসুস্থ্য হয়ে গেলেই তারা সিলেট স্থানান্তর করে দেন। নিজেদের উপর দায়িত্ব সরিয়ে দিতে পছন্দ করেন ডাক্তাররা। আইসিউ ইউনিট চালু হলে, আমাদের সিলেট যাওয়া কমে যেত।
হাসান আহমদ জানান, হৃদরোগের কোন চিকিৎসা সদর হাসপাতালে নেই। হার্টের কোন সমস্যা দেখা দিলেই সাথে সাথে সিলেট নিয়ে যেতে হয়। এর কোন বিকল্প নেই।
এদিকে দশ শয্যা বিশিষ্ট আইসিউ ইউনিটের সকল নির্মাণ ও মেশিনারিজ স্থাপন কার্যক্রম শেষ করেছে জেলা গণপূর্ত অফিস। আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের জন্য ২ কোটি ৭৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বরাদ্দ হয় সরকার থেকে। তার মধ্যে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় আইসিউ ইউনিট। নির্মাণ কাজ শেষে বাকি ২৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৩ টাকা সরকারকে ফেরত দেয়া হয়েছে। উদ্বোধনের জন্য ইতোমধ্যে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরও করা হয়ে গেছে। শুধু ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ কে›েন্দ্রর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সুনামগঞ্জের ২৪ লক্ষ মানুষ। আইসিউ ইউনিট চালু হলে রোগীদের বিশেষ এই সেবার জন্য আর সিলেট যেতে হতো না।
গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বললেন, আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের জন্য আমাদের সকল কাজ শেষ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হয়ে গেছে। এখন তারা যখন ইচ্ছা কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। নির্মাণ কাজ শেষ করে যে টাকা অবিশিষ্ট ছিলো, তাও আমরা ফেরৎ দিয়ে দিয়েছি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, সিলেট পাঠানোর প্রবণতা এখন একেবারে কমে গেছে। হৃদরোগের কোন ডাক্তার নেই, তারপরও আমরা চিকিৎসা দিতে শেষ চেষ্টা করে থাকি। খুব প্রয়োজনীয় না হলে সিলেটে রেফার করা হয় না। হাসপাতালে ডাক্তার সহ অন্যান্য অনেক কিছুর সংকট থাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে কিছুটা সমস্যা হলেও আমরা সেটা সামলানোর চেষ্টা করছি। নতুন যে আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে, সেটি চালুর জন্য যে ডাক্তার নার্স ও পর্যাপ্ত জনবল দরকার তার কিছুই নেই। হাসপাতালের সকল সমস্যা জানিয়ে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ করে চিঠি পাঠিয়েছি উর্ধ্বতনদের কাছে। পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ হলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন