প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৪ ০৫:৫৬
তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের একমাত্র ঘরটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তাহিরপুর। ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করার পাশে কোন ঘর না থাকায় অদূরে বেছে নেয়া হয়েছে আনোয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি টিনসেড ঘরকে। বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন দুইকক্ষ বিশিষ্ট এই দু’চালা টিনের ঘরে বৈদ্যুতিক বাতি ও পাখা কিছুই ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় গরমে শিক্ষকদের অনেকটা বাধ্য হয়েই গাছতলাতে পাঠদান নিতে হচ্ছে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তৃতীয় শ্রেণির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীদের গাছতলায় পাঠদান নিতে দেখা যায় বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে।
গত সপ্তাহে সারাদেশ ব্যাপী তীব্র গরমে অসহনীয় হয়ে পড়ে সবকিছু। এর পর গত কয়েকদিন সারদেশ ব্যাপী কিছুটা বৃষ্টিপাত হলে স্বস্তি ফিরে সারাদেশে। এ অবস্থার মধ্যে পরশু থেকে হঠাৎ করে আবার তাপমাত্রা বাড়তে থাকে সেই সাথে দেখা দেয় অসহনীয় গরম। বর্তমান সময়ে লোডশেডিং আর তীব্র্র গরমে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। বিদ্যালয়ে যারা উপস্থিত হয় তারাও গরমে হঁসফাঁস করে। এ অবস্থার শ্রেণিকক্ষ থেকে শিশুদের গাছতলায় এনে পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষিকা, যাতে গরমের কারণে শিশুদের শারীরিক কোন অসুবিধা না হয়।
আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তার হলি বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে শ্রেণি কক্ষে বসাই যায় না। এছাড়া শ্রেণীকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা নেই। যতদিন অসহনীয় গরম থাকবে ততদিন গাছতলয়ায় শিক্ষার্থীদের তিনি পাঠদান করাবেন বলে জানান।
আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার ছাত্র অভিভাবক মিলন তালুকদার বলেন, গরমের মধ্যে শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। এছাড়া পাঠদানের কক্ষগুলোতে বৈদ্যুতিক ফ্যান নেই। ফ্যান দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করেন তিনি।
আনোয়ারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আসমিনা বেগম বলেন, তীব্র গরমের কারণে শিশুরা ক্লান্ত হয়ে যায়। গরমের মধ্যে আমার ওই শিক্ষক গাছ তলায় ক্লাস নেয়। আমি তার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তাহিরপুর এর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ উল্লাহ খান বলেন, আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘরটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য আনোয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিফট করা হয়েছে।
আনোয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল চন্দ্র দে বলেন, আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পুরাতর ঘরটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিহীন পরিত্যাক্ত ঘরের প্রথমে দুটি কক্ষ দেই। পরে এসব কক্ষে তাদের সংকুলান না হওয়ায় আরো একটি কক্ষ দেই।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন