প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৪ ০৭:৩৯
কোটি টাকার স্বপ্ন দেখছেন মোশারফ হোসেন
তাহিরপুরে মাচায় ১২ মাসি তরমুজ চাষ করে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখছেন মোশারফ হোসেন। উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন। পেশায় তিনি বীজ ও সার বিক্রেতা। তরমুজ চাষের লক্ষে তিনি উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের করপোলার হাওরে ৫ কিয়ার পতিত জমি (৩০ শতকে এক কিয়ার) এক কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কিয়ার ২ হাজার টাকা দরে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া নেন। এ বছরের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে জমিগুলোতে ৫ জাতের তরমুজ বীজ বপন করেন। বীজগুলো হলো- ব্ল্যাক বেরী, ব্ল্যাক কিং, হলুদ মধুমালা ও ডোরাকাটা তরমুজ। উত্তর বড়দল ইউনিয়নে উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত তাকে তরমুজ চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
তরমুজ চাষী মোশারফ হোসেন বলেন, মৌসুমী তরমুজের চাইতে বারমাসি তরমুজের চাহিদা সারা দেশে অনেক বেশী। আর ১২/১৪ দিন পর থেকে তরমুজ উঠানো হবে। ঢাকা, সিলেট ও ভৈরব সহ বিভিন্ন অঞ্চলের তরমুজ ব্যবসায়ীরা তরমুজ কেনার জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করছেন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের (উত্তর বড়দল ইউনিয়নের দায়িত্বে) উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন হোসেন বলেন, করপোলা হাওরে মাচায় তরমুজ চাষ খুব ভালো হয়েছে। তরমুজের ভালো ফলন দেখে তিনি অনেক সময় স্বপ্রেণোদিত হয়েই নিয়মিত ভাবে দেখভাল করে আসছেন।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, বারমাসি তরমুজ চাষ তাদের এলাকাতে এই প্রথম। এছাড়া নানা রকম রংবেরং এর তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই অন্য এলাকা থেকে লোকজন ওখানে দেখতে আসেন।
বাদাঘাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কৃষি বাণিজ্য বিতানের স্বত্বাধিকারী নূর মিয়া বলেন, করপোলার হাওরে মাচায় বারমাসি তরমুজ চাষ দেখে এলাকার অনেক চাষী উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তিনি ধারণা করছেন ওখানের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আগামীতে আনও অনেক কৃষক তরমুজ চাষ করবেন বলে তাকে জানিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান-উদ-দৌলা বলেন, তিনি করপোলা হাওরে মাচায় তরমুজ চাষ গিয়ে দেখে এসেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট উসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া আছে তরমুজ ফলনে চাষীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়ার।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন