সড়ক সংস্কারে ধীরগতি

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৪ ০৭:১৭

প্রকল্পের সময় আছে ১ মাস,  কাজ হয়েছে ৪৫ ভাগ

নিয়ামতপুর- আনোয়ারপুর সড়ক|| ছবি.সুখবর

সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে তাহিরপুর যাওয়ার বিকল্প সড়ক নিয়ামতপুর থেকে আনোয়ারপুর সড়কের মেরামতের কাজ ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়েও শেষ করা নিয়ে শংকা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষের একমাস থাকলেও এখনও ৫০ ভাগেরও কম করতে পেরেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়রা বলছেন, শুরুতে কাজের যে গতি ছিলো শেষের দিকে গতি ছিলো না। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে না।


লাখো মানুষের যোগাযোগ রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের নিয়ামতপুর থেকে ফতেপুর হয়ে তাহিরপুর সড়ক যোগাযোগ শুরু হয় ৫০ বছরেরও বেশি আগে। নানান সময় সংস্কার কাজ হলেও বছরে বছরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়কটি। তবে সড়কটি সচল থাকলে জেলা সদর থেকে তাহিরপুর, মধ্যনগরসহ ভাটি অঞ্চলে যাতায়াতে দশ কিলোমিটার পথ কমে যায়। নইলে জেলা শহর থেকে বিশ্বম্ভরপুর সদর হয়ে তাহিরপুরে যেতে হয়। এতে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ বাড়ে যাতায়াতে। এ ছাড়া সড়কটি চালু থাকলে ফতেপুর ইউনিয়নবাসী এবং জামালগঞ্জের সঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুরের যোগাযোগও সহজ হয়।


তাহিরপুর থেকে নিয়ামতপুর সড়ক নির্মাণের কাজ ২০২২ এর আগে শেষ হয়। একই বছরে শতাব্দির ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়কটি। পরে নিয়ামতপুর থেকে আনোয়ারপুর পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়ক ‘বন্যা পূর্ণবাসন প্রকল্পের’ আওতায় সংস্কারের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স অ্যান্ড সালেহ আহমদ জয়েন্টভেঞ্চার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের জুন মাসে। ২০২৩ এর জুলাই থেকে ২০২৪ জুন পর্যন্ত একবছর মেয়াদের কাজ এখন পর্যন্ত ৪৫ ভাগ শেষ করতে পেরেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অবশ্য তদারকি সংস্থা সড়ক ও জনপথ বিভাগের দাবি, সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায় নি। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।


বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফহেপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা তছলিম উদ্দিন বলেন, সড়কের পাশেই বাড়ি আমার। শুরুতে যে গতিতে কাজ হয়েছে কয়েকদিন পর গতি কমে গেছে। কাজে শ্রমিক ও মেশিনের পরিমাণ কমানো হয়েছে। অন্যান্য বছর থেকে এবার বৃষ্টিপাত হয়নি বললেই চলে। সোনার বৈশাখ পেয়েছি আমরা। ইচ্ছে থাকলে জুনের মধ্যেই কাজ শেষ করা যেতো। এখন কাজের গতি দেখে কবে শেষ হবে তা বুঝতে পারছি না। 

নিয়ামতপুর- আনোয়ারপুর সড়কে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে এভাবেই কাজ চলছে|| ছবি. সুখবর
তাহিরপুরের বাসিন্দা জুনায়েদ মিয়া বলেন, এদিকে সড়কের কাজ শেষ হলে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক কমবে। এখন বিশ্বম্ভরপুর হয়ে ঘুরে জেলা শহর সুনামগঞ্জে যেতে হয়। যত দ্রুত কাজ শেষ করা হবে আমাদের জন্য তত ভালো।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স অ্যান্ড সালেহ আহমদ জয়েন্টভেঞ্চারের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. সুজন শেখ বললেন, হাওরাঞ্চল হওয়ায় এখানে বারো মাস কাজ করা যায় না। গেল বছরের জুলাই থেকে কাজ করার কথা থাকলেও ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করা লাগছে। এবছর ক’দিন পর আবারও বৃষ্টিপাত শুরু হবে। এজন্য এবছর কাজ শেষ করতে পারবো না। আগামী অর্থবছরে কাজ শেষ হবে।


৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে নতুন প্রকল্প
পুরান বারুকা গ্রামের সামনে সেতুর নিচে কয়েকশ’ ফুট সড়কে কাজ করা হয়নি। বাইশের বন্যায় সড়কের এই জায়গা সম্পূর্ণ ওয়াশ আউট হয়েছে। ফলে পাশেই একটি সেতু থাকলেও এখানে নতুন করে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৯ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ সড়ক নির্মাণ খাত থেকে ও সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে সেতু নির্মাণের খাত থেকে বরাদ্দ নিয়ে। দুটি আলাদা খাতের বরাদ্দ থাকায় একসঙ্গে কাজ শুরু করা যায় নি। এজন্য ৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের সময় বাড়িয়ে কাজ শেষ করা গেলেও ওই গ্রামের সামনে সড়কের কিছু জায়গা নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে সড়কের কাজ শেষ হলেও বারো মাস যোগাযোগের পথ তৈরি হবে না সেতু না হলে।


এই প্রকল্পের কাজে দুদকের অভিযান
রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করার আগেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। চলতি মাসের ৬ মে সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেট থেকে এই এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় নিয়ামতপুর- আনোয়ারপুর সড়কের বন্যা পূর্ণবাসন প্রকল্পের ৯ কিলোমিটার রাস্তা কাজের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিল, ভাউচার সম্বলিত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়।


দুদকের অভিযানের বিষয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রাং বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকে। তার জের ধরে কেউ হয়তো অভিযোগ করেছেন আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম বিল দিয়েছি। কাজ এখনও চলমান রয়েছে। ৩৬ কোটির মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা দিয়েছি। ।


তিনি বলেন, পুরান বারুকা গ্রামের সামনে সড়কের কিছু অংশ ওয়াশ আউট হয়ে গেছে। এজন্য আমাদের টেকনিক্যাল টিম সার্ভে করে ওখানে একটি সেতু নির্মাণের সুপারিশ করেছে। এটির চূড়ান্ত নকশা হয়ে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি এটির দরপত্র আমরা আহ্বান করবো। দুইটি আলাদা খাতের কাজ হওয়ায় একসঙ্গে শুরু করা যায় নি।


তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জ হাওর এলাকা হওয়ায় এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি। এজন্য নির্ধারিত সময়ে ৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করা যায় নি। সময় বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আশ করি আগামী অর্থবছরের মধ্যে কাজটি শেষ হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলেও প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়বে না। 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার