প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৪ ২০:৫৮
-ছবি. সুখবর
রেকর্ড ভাঙা গরমে পুড়ছে সুনামগঞ্জ। গত তিনদিন ধরে বইছে তীব্র দাবদাহ। শনিবার মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সুনামগঞ্জের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। হঠাৎ এমন গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন। আরও দু একদিন একই আবহাওয়া থাকার পূর্ভাবাস স্থানীয় অফিসের।
তীব্র গরমে যখন পুড়েছে সারাদেশ তখন স্বাভাবিক ছিল সিলেট-সুনামগঞ্জের পরিবেশ। সেই দাবদাহের আঁচ এখন এসে লেগেছে সুনামগঞ্জে। এর আগে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার গত দুইদিনের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস আবহাওয়ার রেকর্ড ভেঙে শনিবার দুপুর ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। জেলার কোনো কোনো জায়গায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠারও খবর পাওয়া গেছে। যা এবারের মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এমন গরমে বেশি কষ্টে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। পেটের তাগিদে রুদে পুড়ছেন তারা। আবার অনেক জায়গায় তীব্র গরমের যন্ত্রণায় কাজে আসেন নি শ্রমিকরা।

আলফাত উদ্দিন স্কয়ারে রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা চালক আজিজ বলেন, গরমে জান বের হয় অবস্থা। ঠিক মতো ট্রিপ দিতে পারি না। একটা ট্রিপ দিলে এক ঘন্টা বিশ্রাম নেয়া লাগে। তবুও বের হতে হয় জীবন বাঁচানোর জন্য।
বড়ঘাট এলাকার মাটি শ্রমিক আফু মিয়া বলেন, গরমে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। এমন গরমে কাজ করা যায় না। মনে হচ্ছে শরীরের উপরেই চামড়া জ্বলে যাচ্ছে। গাঁয়ে আগুন লাগার মতো অবস্থা।
ভ্রাম্যমান সবজি ব্যবসায়ী সুমন মিয়া বলেন, টেলাগাড়ী নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় হেঁটে হেঁটে সবজি বিক্রি করে চলি। যে গরম পড়েছে মাথায় উল্টাপাল্টা কাজ করে। সকল পাড়ায় যেতে পারি না রোদের কারণে। এক ঘন্টা হাঁটলে দু ঘন্টা বিশ্রাম নিতে হয়।
বড়ঘাট মিলের এক শ্রমিক জানান, গত দুইদিন সর্বোচ্চ গরম দেয়ার পরেও তারা মিলে কাজ করেছেন। কিন্তু আজকে আর কেউ মিলে কাজ করতে আসেনি। গরমের যন্ত্রণায় সবাই বাড়িতে আছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো সজীব হোসাইন বলেন, বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই গরম কমবে না। বৃষ্ট নির্ভর করছে বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট লঘুচাপের উপর। লঘুচাপ ঝড়ে পরিণত হয়ে আসলে কমবে গরম। এর আগে গরম কমার সম্ভাবনা নেই।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন