প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৪ ০৮:১০
সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ ও সম্পাদকীয় প্রকাশ
৪টি ইঞ্জিন সেচ পাম্প লাগিয়ে নৌ-যানকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ২ জুন তারিখে ‘অযত্ন নষ্ট হচ্ছে রেসকিউবোট’ ৩ জুন ‘উদ্ধার নৌ-যানকে উদ্ধার করা হোক’ শিরোনামে সম্পাদকীয় প্রকাশ হওয়ার পর রেসকিউবোট উদ্ধারে তৎপর হয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। বিকালে সরেজমিনে গিয়ে তাহিরপুর থানা ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, রেসকিউ বোটে ৪টি ইঞ্জিন সেচ পাম্প লাগানো হয়েছে উদ্ধার নৌ-যানকে উদ্ধার করার জন্য। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেচ কাজ চলছিল।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হাওর ও উপকূলীয় জেলাগুলোর জন্য ৬০টি রেসকিউ বোট তৈরি করে। প্রথম বছর ৮টি বোট বিভিন্ন জেলায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী বছর ২০২২ সালে আরও ৫২ টি বোট বিভিন্ন জেলা উপজেলায় হস্তান্তর করা হয়। সে বছর সুনামগঞ্জ জেলায় দুইটি বোট হস্তান্তর করে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। একটি তাহিরপুর ও অপরটি সুনামগঞ্জ সদরে। ঐ বছরই তাহিরপুর সহ পুরো সিলেট জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। ২০২২ সালের বন্যার সময় এ রেসকিউ বোটটি বিভিন্ন কাজে লাগে। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ নিয়ে যাওয়া হতো বন্যার্ত ও বানবাসী মানুষদের পাশে।
২০২২ সালে বন্যা কমে যাওয়ার পর বোটটি শাহ আরেফিন অটো রাইস মিলের সামনে বৌলাই নদীতে নোঙ্গর থাকে কিছুদিন। এ বছরই সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে বোটটি নোঙ্গর করা হয় তাহিরপুর থানা পুলিশ স্টেশনের সামনে। শীত মৌসুমে বৌলাই নদী শুকিয়ে গেলে রেসকিউ বোটটি দীর্ঘ ৬ মাসের মত শুকনোতে পরে থাকে অযতেœ-অবহেলায়। সম্প্রতি অতি বৃষ্টিতে নদীতে পাহাড়ি ঢল এলে রেসকিউ বোটটি পানির নীচে পড়ে।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায় ৫৪ ফুট দীর্ঘ ও ১২.৫০ ফুট রেসকিউ বোটটির দীর্ঘ হুডটি ছিঁড়ে গেছে। ইঞ্জিন সহ মূল বডি অনেকটা পানির নীচে পড়ে আছে,শুকনো মাটিতে দীর্ঘদিন থাকার কারণে স্থানে স্থানে ঝং ধরেছে। নদীতে গোসল করতে এসে অনেক শিশু কিশোররা ইচ্ছে মত বোটটি ব্যবাহার করছে। এ অবস্থায় আর কিছুদিন থাকালে বোটটি আর কোন কাজেই আসেব না এমনটাই ধারনাই করছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন।
তাহিরপুর উপজেলা সদরের রতনশ্রী গ্রামের বাসিন্দা ট্যুরিস্ট গাইড সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, সংবাদের কারণে রেসকিউ বোটটি শুধুর উদ্ধার করলেই চলবে না। রেসকিউবোটে স্থায়ীভাবে চালক ও সুকানি নিয়োগ দিতে হবে। তাহলেই এটি ভালো থাকবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, রেসকিউ বোটটি উদ্ধারের জন্য ৪টি ইঞ্জিনচালিত সেচ পাম্প লাগানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরোপুরি উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহিবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সাব্বির নামের এক ড্রাইভারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে এক বছর ধরে নৌকার তদারকিতে নাই। সে যদি তদারকিতে থাকতো তাহলে নৌকার এই অবস্থা হতো না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন