বাদাঘাট বাজার 

সেই মশলার মিলগুলো চলছে ভুয়া লাইসেন্সে

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৪ ০০:০১

ভুয়া লাইসেন্সে চলছে তাহিরপুরের বাদাঘাট বাজারের ১৫টি মশলা মিল। অভিযোগ ছিল কুরবানির ঈদ সামনে রেখে ভেজাল মশলা উৎপাদন হচ্ছে এসব মিলে। সিভিল সার্জন অফিসের প্রিমিসেস লাইসেন্স নকল করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাঠের এবং ধানের গুঁড়ার সাথে লাল কেমিক্যাল মিশিয়ে মরিচ, হলুদ, জিরে সহ বিভিন্ন ধরনের মশলা উৎপাদনের অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।
সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম একটি বৃহৎ বাজার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজার। এ বাজারে অন্তত ২০টি মশলার মিলে উৎপাদন হয় রান্নার প্রয়োজনীয় মশলা। মশলা মিলের পাশেই স—মিল ও রাইস মিল। অভিযোগ উঠে মিলের সামনে থাকা স—মিল ও রাইস মিলের গুড়োর সাথে লাল রঙের কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে মরিচ ও হলুদের গুঁড়ো। এমনি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। 
এমন অভিযোগের সত্যতা জানতে শনিবার মশলা মিলগুলোতে গিয়ে দেখা যায় দোকান খালি রেখে সটকে গেছেন প্রায় সকল ব্যবসায়ী। খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া যায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানকে। কাঠের গুঁড়া মিশানোর কথা অস্বীকার করলেও ৪শ’ টাকা কেজি ভালো মরিচের সাথে ৭০ টাকা কেজি নিম্ন মানের মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে বিক্রির কথা বলেন তিনি।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান বলেন, পটকা (সাদা)  মরিচ আর তেজা (লাল) মরিচ মিশিয়ে উৎপাদন করা হয় গুঁড়ো মরিচ। পটকা মরিচ ৭০ টাকা কেজি ঝাল কম আর তেজা মরিচ ৪শ’ টাকা কেজি ঝাল ও লাল বেশি। তাই দুইটা মিক্স করে সমন্বয় করতে হয়। সবাই দামী মরিচ কিনতে পারে না তাই দুই মরিচ মিশিয়ে দাম কমিয়ে বিক্রি হয়।  এই সাদা মরিচের গুঁড়াকে কাঠের গুঁড়া লিখে ফেসবুকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে পরবর্তী থেকে মানার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি। 
বাদাঘাট বাজার মশলা মিল মালিক সমিতি সভাপতি  মো. মৌলা মিয়াও একই কথা বললেন। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে মিল তালা দেয়ার কথাও বলেন তিনি।
এসময় নামহীন একটি দোকানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে প্রত্যেক মিলের জন্য দেয়া সিভিল সার্জন অফিসের ১৫টি প্রিমিসেস লাইসেন্স দেখান তিনি।  তাহিরপুর উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টরের কাছ থেকে ৭—৮শ’ টাকা দিয়ে প্রত্যেক কাগজ পেয়েছেন বলে জানান।
জরাজীর্ণ অস্বাস্থ্যকর এমন দোকানে লাইসেন্স কোন মানদণ্ডে দেয়া হলো এমন বিষয় জানতে সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বাজারে সিভিল সার্জন অফিস থেকে কোনো লাইসেন্স দেয়া হয়নি। সীল স্বাক্ষর নকল করে সবগুলো কাগজ ভুয়া বানানো হয়েছে। যারা এ কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি।
খাদ্যে ভেজালের প্রমাণ সহ কেউ জানালে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার