প্লাবনে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, প্রশংসায় ভাসছে পিডিবি

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৪ ২৩:৩৩

পাহাড়ি ঢল আর সুনামগঞ্জের অতিবৃষ্টির পানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে মঙ্গলবার ভোর থেকে পৌর শহরে প্রবেশ করতে থাকে সুরমা নদীর নদী। বিপৎসীমার সর্বোচ্চ ৬৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রবল বেগে শহরে ঢুকে ভাসিয়ে দেয় প্রায় সবকয়টি এলাকা। এক ঘন্টার ব্যবধানে মানুষের বসত ঘরে ঢুকতে শুরু করে বানের পানি। যানমালের নিরাপত্তায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বন্যা কবলিতরা। আকস্মিক এই বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েন মানুষ। 


দুপুর ১২ টার আগেই জলে ভাসে প্রায় পুরো শহর। সীমাহীন দুর্ভোগ ও কষ্টে পড়েন পৌরবাসী। বানের পানি সড়ক ডুবিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে প্রবেশ করে ভোগান্তি বাড়ালেও মানুষ অনেকটা স্বস্তিতে পেয়েছেন সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ থাকায়। প্লাবন পরিস্থিতির মতো দুর্যোগে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জকে (পিডিবি) বানের জলের মতোই প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন দুর্গতরা। দুর্যোগে পাশে থাকায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সবাই।


পৌর শহরের ৭ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম তেঘরিয়া এলাকার গৃহিণী সোমা আলম বলেন, ভোর সাড়ে ৬ টায় পানি প্রবেশ করে ঘরে। পানি ঢুকে পড়ায় সব আসবাবপত্র উপরে তোলার চেষ্টা করি। এসময় এই কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে বিদ্যুতের আলো। বিদ্যুৎ থাকায় ভোগান্তি হলেও স্বস্তি ছিল মনে।


বড়পাড়ার আমিরুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য সময় দুর্যোগ আসার আগে বিদ্যুৎ চলে যেত। কিন্তু এইবার বিদ্যুৎ বিভাগ যে সেবা দিয়েছে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ না থাকলে নেটওয়ার্ক থাকতো না। যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে যেত। কিন্তু সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ থাকায় কষ্ট অনেকটা লাঘব হয়েছে। সবার সাথে যোগাযোগ রাখাও সম্ভব হয়েছে। 


ছাতক পিডিবির বাসিন্দা আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন,  ৩ দিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ছাতকে। দুর্যোগে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করায়  বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র ছাতকের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।


বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু নুয়মান বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার। কোনো বড় ধরনের ঝড় বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া বিদ্যুৎ সেবা বন্ধ করা হয় না। যখন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন অনিচ্ছাকৃত ভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। ঈদের দিন হালুয়ারগাঁও সাব-ষ্টেশনের কাছে বজ্রপাতে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। সরকারি ছুটি থাকার পরও দিরাই থেকে মানুষ এনে যত দ্রুত সম্ভব লাইন ঠিক করার চেষ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।


তিনি আরও বলেন, আজ শহরে পানি থাকলেও ঝড় বা বজ্রপাত ছিল না, শুধু বৃষ্টি ছিল। যার কারণে লাইনের কিছু হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার প্রয়োজন হয়নি। তবে পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে গ্রাহকের প্রাণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিদ্যুৎ বন্ধ করতে হয়। কিন্তু আশার কথা পানি সেই লেভেল পর্যন্ত যায়নি। তার উপর মানুষের কুরবানী দিয়েছে। সেই কুরবানীর মাংস নষ্ট হবে বিদ্যুৎ না থাকলে এই চিন্তাও ছিল আমাদের।  তবে অতিরিক্ত পানি থাকায় বেতগঞ্জ ফিডারের ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ঠিক করতে না পারায় বেতগঞ্জের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। আমরা এটাও দ্রুত ঠিক করার চেষ্টা করছি। যে কোনো পরিস্থিতিতে আমরা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত।


এর আগে দুপুরে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। পানি বৃদ্ধি পেলেও সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এগুলো সচল রাখার বিষয়ে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার