প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৪ ০৮:৫৭
ক্ষতি ৭২ কোটি টাকার
জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষি, তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানা। পড়ালেখা শেষ করে চাকরীর পিছনে না ছুটে স্বপ্ন দেখেছিলেন মাছ চাষ করে উদ্যোক্তা হওয়ার। তার সেই স্বপ্নকে বার বার দুঃস্বপ্ন বানিয়ে দিচ্ছে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা। তিনি জানান, ২০২২ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ভেসে যায় ১০টি পুকুরের ২৫ লক্ষ টাকার মাছ। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠার আগেই আবারও চোখের সামনেই তলিয়ে যায় তার ১৩ লক্ষ টাকার মাছ ভর্তি ৪ টি পুকুর।
সোহেল রানা বলেন, আমার পুকুরে তেলাপিয়া, পাঙাস, কার্পজাতীয় মাছ সহ বিভিন্ন বাংলা ছিল। বন্যা আসবে- সেই প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলাম। চারদিকে নেটিং করে রেখেছি, কিন্তু পানির এতো ¯্রােত ছিল, যে নেটিংয়ের উপর দিয়ে মাছ চলে যায়।
তিনি বললেন, ব্যাংকের স্বজনপ্রীতির কারণে মৎস্য চাষিদের জন্য দেয়া কম সুদের সরকারি লোন না পাওয়ার অভিযোগ করে বলেন, আমার ১০টি পুকুর আছে। ৩ বারের শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষি আমি তারপরও লোন নিতে পারি নি। কিন্তু ভালো কোনো পুকুর ছাড়াই সেই লোন পেয়ে যায় কেউ কেউ।
ঈদের রাতে কিছু বুঝে উঠার আগেই পুকুর আর হাওরের পানি মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। শান্তিগঞ্জ উপজেলার কামরুপদলংয়ের মৎস্য চাষি মো. হাম্মাদের ৫ টি পুকুর। আত্মীয় স্বজনের কাছ ধার দেনা করে আনা টাকার মাছগুলো এখন ভাসছে হাওরের অথৈ জলে। পুকুরে আছে শুধু পানি।
মো হাম্মাদ আহমেদ বলেন, আমরা ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছি তখন ফোন আসে আমার ফিসারী থেকে পানি ঢুকে গেছে পুকুরে। পরে আমার কর্মচারীরা ভিডিও পাঠালো সেই ভিডিও দেখে মন ভেঙে গিয়েছিল। পুকুর আর হাওর মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। একটি পুকুরের সবগুলো বিশাল সাইজের মাছ রেখেছিলাম বিক্রি করার জন্য। এই মাছগুলো সহ পোনাও থাকেনি পুকুরে। মাছ চাষের সামান্য টাকা আমার আর বাকি টাকা আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করা। সেই ঋণ শোধ করার সক্ষমতা আর আমার নেই।
শুধু সোহেল রানা কিংবা হাম্মাদ মিয়া নয়, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় জেলার ৮ হাজার পুকুরের ৪ হাজার মেট্টিক টন মাছ ভেসে যাওয়ার দাবি মৎস্য বিভাগের। পুকুর পাড় হ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচশো অবকাঠামোর। টাকার পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে ৭২ কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের। ফের ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা চান সুনামগঞ্জের মৎস্য চাষিরা।
সদ্য অবসরে যাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস শহীদ বলেন, পুকুরে শুধু পানি আছে। মাছ শূন্য পুকুরের পাড় দিয়ে হাঁটি আর পানি দেখি। এছাড়া আর কিছু করার নাই।
চাষি ফারুক আহমেদ বললেন, বার বার এরকম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমরা ভেঙে পড়েছি। সরকার সহযোগিতা না করলে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় নেই।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামসুল করিম বলেন, বন্যার পানিতে জেলার বিশ হাজার পুকুরের মধ্যে আট হাজার পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। অনেক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের তালিকা করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন