প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৪ ০৭:৪২
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের খুচরা বাজারগুলোতে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে প্রকারভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। আদা প্রতি কেজি প্রকারভেদে ২৮০-৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শহরে খুচরা বাজারে শাক-সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
শসা, করলা, টমেটো ও কাঁকরোল প্রতি কেজি বিক্রয় হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকার উপরে। ঈদের আগে থেকে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ১৪ টাকা বেড়েছে। যে পেঁয়াজ ঈদের আগে বিক্রি হচ্ছিল ৬০-৬৫ টাকা কেজি সেই দেশী পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৯০-৯৫-১০০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। এলসির পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭৫-৮০ টাকা কেজি বিক্রয় হচ্ছে। পাইকারি দেশী পেঁয়াজ ৮৪- ৮৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে দাম বাড়ায় ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠছে।
শহরে বাজার করতে আসা রিকশা চালক আলী আকবর বলেন, একমাসের মধ্যে কাঁচা মরিচ, সবজি কিনছি না। শুধু আলু ও সিদল কিনে খাই। আলুর দামটাও বেশি। আগে এক কেজি করে কিনতাম। এই কয়দিন ধরে হাফ কেজি কিনি। আমরা গরীবের দিন কষ্টে যাইতাছে। কিছুই করার নাই।
আরেক ক্রেতা জহির মিয়া বলেন, পাইকারি দামের সাথে খুচরা দামের পার্থক্য বেশি। কাঁচা মরিচের দাম পাইকারি ২২০ টাকা আছে। খুচরা বাজারে ৩০০ টাকা। এত বেশি কেন? বাজারে তদারকির দরকার। এইরকম অনেক সবজিতেও পার্থক্য রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের পর মানুষের চাহিদা কম থাকলেও বিভিন্ন জেলা থেকে শাক-সবজি আসছে কম। স্থানীয় সবজিও কম। কারণ হিসেবে বলছেন, ভারি বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এলাকায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে বাজারে দাম বেশী।
শুক্রবার শহরের কিচেন মার্কেটে সবজি বাজার, জেল রোড, ষোলঘর, ওয়েজখালী বাজার সহ বিভিন্ন এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ১০০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। সে হিসেবে প্রতিকেজি কাঁচামরিচের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত পড়ছে। আবার এককেজি নিলে দাম পড়ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। যদিও জেল রোড বাজারে পাইকারিতে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৭০ টাকায়।
.jpg)
এ বিষয়ে পাইকারি বিক্রেতা প্রসেনজিৎ দে বলেন, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় কাঁচামরিচ, শসা সহ কিছু সবজির উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আড়তে সবজির সরবরাহ একেবারেই কম। মূলত আবহাওয়াগত সমস্যার কারণেই সবজির দাম বেশি বলে জানান তিনি।
এদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি শসা মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা দরে, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১৭০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।
কিচেন মার্কেটে সবজি বিক্রেতা গোপী রঞ্জন সরকার বলেন, ঈদের দিন থেকে এলাকায় বন্যা। স্থানীয় সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। বাইরে থেকে এখন সবজি কম আসে। এ কারণে দাম বেশি।
প্রতিকেজি বেগুন প্রকারভেদে ৫০-৬০-৮০-৯০ টাকা, পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৯০ টাকা এবং পটল, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, পটল ও ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ প্রতিপিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুমন মিয়া বলেন, সারা দেশেই বন্যা হয়েছে। বাইরের কিছু সবজি সুনামগঞ্জে আসে সেগুলোর দামও বেশি। একমাত্র লতা, কচু বাদ দিয়ে আর কোনো সবজি এলাকায় নাই। তবে খুচরা বিক্রেতাদেরকে বলছি, তারা যেন কমে বিক্রি করেন।
এদিকে প্রতিকেজি আলু খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। আর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৮-৬০ টাকায়।
খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। ঈদের আগের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেশি। আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকায়। বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজন। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২৩০ টাকা ডজন।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, সুনামগঞ্জে সবজি নেই। তাছাড়া বন্যায় বিভিন্ন অঞ্চলে সবজির ক্ষতি হয়েছে। এজন্য সবজির দাম বেড়েছে। কাঁচা মরিচের কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এই সময়ে কাঁচা মরিচের সংকট দেখা দেয়। দামটাও বেড়ে যায়। দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা প্রতিনিয়তই বাজার মনিটরিং করছি।
ডিমের দামের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিমের দামটা নিয়ে আমরা ভোক্তা অধিকারের পক্ষ থেকে তদারকি করছি। দাম কমানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন