প্রকাশিত: ০৫ জুলাই, ২০২৪ ০৬:৫০
আমদানি কম, বন্যায় নষ্ট হয়েছে সবজির ক্ষেত সেজন্যই দাম বেশি- বলছেন বিক্রেতারা
ঈদের দিন থেকেই সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বন্যা এবং অতিবৃষ্টির কারণে দাম বেড়ে যায় কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ সহ নিত্যপণ্যের। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে আলু-পেঁয়াজ সহ সবজির দাম। এছাড়া কাঁচামরিচের দাম ২০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ বেড়ে এখন ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচামরিচের আমদানি একেবারে কম। এদিকে বন্যায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। সেজন্যই দাম বেশি।
বৃহস্পতিবার শহরের জেল রোড, জগন্নাথ বাড়ী রোড সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
নানা অজুহাতে পৌর শহরের বাজারে বেড়েই চলেছে কাঁচামরিচের দাম। ছোট জাতের দেশীয় কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজিতে। তবে হাইব্রিড মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁকরোল ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, ৬০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৮০ টাকা, লতা ৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৮০-১২০ টাকা, মুখি ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা, লেবুপ্রতি হালি ১৫-৪০ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শহরে বাজার করতে আসা রিকশা চালক হরমুজ আলী কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে রীতিমতো অবাক হয়েছেন। বাজারে তার কাছ থেকে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৪০০ টাকা চাওয়া হয়েছে, আর হাইব্রিড মরিচের দাম চাওয়া হয়েছে ৩৫০ টাকা। অর্থাৎ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা প্রতি একশ গ্রাম কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
হরমুজ আলী বলেন, গতকাল ৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনেছি ১৫ টাকা দিয়ে। আজকে বিক্রেতারা বললেন ২০ টাকা ৫০ গ্রাম। আমরার পক্ষে আলু, কাঁচা মরিচ কিনে খাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। দাম শুনে আমি রীতিমতো অবাক হয়ে গেছি। দাম বাড়তেই থাকে, কমে না। হঠাৎ করেই ইচ্ছে মতো দাম বাড়িয়েছেন বিক্রেতারা। আধা কেজি আলু ৩০ টাকায় কিনেছি। ভর্তা করে খাইতে অইব।
বাজার করতে আসা আফাজ মিয়া বলেন, আমি আলু কিনেছি এক কেজি ৬০ টাকা করে। হাফ কেজি পেঁয়াজ কিনেছি ৪৫ টাকায়। এক কেজি পেঁপে কিনেছি ৫০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দাম শুনে ফিরে এসেছি। একশ গ্রাম শুকনো মরিচ ৪০ টাকায় কিনেছি। এক সপ্তাহ আগে থেকেই আমি কাঁচা মরিচ কিনা বন্ধ রাখছি। দাম না কমলে কাঁচা মরিচ খাইতাম না।
তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ। যখন যে জিনিসটার দাম বাড়বে, তখন সেই জিনিসটা কিনা বন্ধ রাখছি। পেঁয়াজ, রসুন, সয়াবিন তেল সহ কিছু পণ্য আছে না কিনে পারি না। তবে কম কম করে কিনতে চেষ্টা করি। এইভাবেই আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমি দিনমজুর। কাজ পাইলে বাজার করি। যেদিন কাজ পাই না, সেদিন কষ্টে দিন কাটাই।
হঠাৎ কেন বাড়ল কাঁচামরিচের দাম এমন প্রশ্নের জবাবে বিক্রেতা গোপী রঞ্জন বলেন, পাইকারি বাজারে কাঁচা রিচের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। বাজারে সরবরাহ কম, পাইকারি বাজারেই আমাদের অতিরিক্ত বাড়তি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে। সে কারণে সেই প্রভাব এসে পড়েছে খুচরা বাজারে। একদিকে বন্যায় সবজির ক্ষেত অনেকের নষ্ট হয়ে গেছে। কাঁচা মরিচের দাম এই সময়ে এমনিতেই বাড়ে। বন্যার কারণে আরও বেড়ে গেছে। আমরা দোকানে তিন কেজি করে কাঁচা মরিচ কিনে রেখেছি। কারণ ক্রেতারা বাজার করতে এলে অন্যান্য সবজির সাথে কাঁচা মরিচ চাইবে, তখন দিতে হবে।
কাঁচা মরিচের বাড়তি দামের কারণ ব্যাখ্যা করে পাইকারি বিক্রেতা মেসার্স লোকনাথ বাণিজ্যালয়ের প্রসেনজিৎ দে বলেন, আমদানি একেবারে কম। আমরা আড়তে একেবারে না রেখে পারি না। ১৫ কেজি কাঁচা মরিচ কিনে রেখেছি। তিনশ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। খুচরা বিক্রেতাদেরকে বলছি কমে বিক্রি করতে।
এ বিষয়ে জেলা মার্কেটিং অফিসার অনুপা চক্রবর্তী বলেন, কাঁচা মরিচের দাম গেল কয়দিন ধরেই বেড়েছে। তবে ৪০০ টাকা কেজি হওয়ার কথা নয়। আমরা বিষয়টি তদারকি করে দেখব।
এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, গতকালকে আমরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছি। আজকে কেন হঠাৎ করে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে জানি না, বিষয়টি আমরা দেখব। যদি সুনামগঞ্জে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে, তাহলে আমরা তথ্য প্রমাণ পেলে আইন প্রয়োগ করব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন