প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৩ ০৮:০৯
আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে। আমাদের সব উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান : এম এ মান্নান
সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫০ তম কিলোমিটারে সদরপুর সেতু। গত দুই বছর ধরে সেতুটির পূর্ব-পশ্চিম পাড়ে বারবার এপ্রোচ ভেঙে যাচ্ছে। নাগডরার হাওর থেকে উৎপত্তি হওয়া নাইন্দা নদীর উত্তর-দক্ষিণ পাড়ের সদরপুর অংশে নদী ভাঙন ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। সেতুর এপ্রোচ দেবে যাওয়ার কারণে দুইপ্রান্তেই বেইলি সংযোগ দিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক রেখেছে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এমতাবস্থায় যানবাহন ও যাত্রী সাধারণের জন্য মারাত্মত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সদরপুর সেতুটি।
এদিকে পাগলা-জগন্নাথপুর-রাণীগঞ্জ সড়কের বমভমি বাজারের বেইলি সেতুরও একই অবস্থা। গত তিনমাসের মধ্যে একাধিকবার সেতুর পাটাতন ভেঙে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে সেতুর পূর্বপাড়ের মানুষের। এজন্য বর্ণনাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীসাধারণকে। বারবার ভেঙে যাওয়া, প্রস্থে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই সেতুটিও পুণঃনির্মাণ করার দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো এলাকাবাসীর।
দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনীয়তার কথা চিন্তা করে গেল জুনে সেতু দুইটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। প্রায় ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুদ্বয়ের কাজ চলমান আছে। নদীর ¯্রােত ও পানি বৃদ্ধির কারণে প্রথমদিকে কাজের গতি কম হলেও এখন পুরোদমেই নির্মাণ কাজ চলছে সেতুগুলোর। এতে যারপরনাই খুশি শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুরসহ সুনামগঞ্জের মানুষ। কারণ সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়া বাজার, জগন্নাথপুর উপজেলাসহ বিভাগীয় শহর সিলেট, রাজধানী ঢাকার একমাত্র সড়ক পথ হচ্ছে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক। যদি সদরপুরের সেতু বন্ধ থাকে তাহলে সুনামগঞ্জ সদরের ১৮ কিলোমিটার পূর্বেই আটকে যেতে হবে সকল যানবাহনকে। এই সেতু হয়েই সুনামগঞ্জ সদরে বিভিন্ন উপজেলায় যেতে হয় মানুষকে। তাই কোনো ধরণের অঘটন ঘটনা ঘটার আগেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫০ তম কিলোমিটারে সদরপুর নামক স্থানে নির্মাণ হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সদরপুর সেতু। ১৪১.৬০ মিটার দৈর্ঘ্য এ সেতুতে স্প্যান থাকবে ৩টি। ফুটপাতসহ সেতুটির প্রস্থ থাকবে ১৩.৪০ মিটার। যার নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। ডাবল লেন মাল্টি স্প্যান স্টিল আর্চ ধরণের এ সেতুর মূল ক্যারিয়েজ থাকবে ১০.৩০ মিটার ও দুই ফুটপাতে প্রস্থ থাকবে ১.৫৫ মিটার করে। আবদুল মোনেম লিমিটেড এন্ড হিদ্দুজ্জামান চৌধুরী জয়েন্ট ভেনচার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের মধ্যে নির্মাণ করবে এই সেতুটি।
একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করবে বমভমি বাজার সংলগ্ন বমভমি বেইলি সেতু। ৬৮.৯০৪ মিটারের এ সেতুর সুপারস্ট্রাকচার নির্মাণবাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা। দুই সেতুতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা।
সোমবার দুপুরে সদরপুর ও বমভমি বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পুরোদস্তুর সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। কর্মীরা কেউ বাঁধছেন স্প্যান বসানোর বড় বড় রড, কেউবা খুঁড়ছেন মাটি। অনেকে করছেন ওয়েলডিংয়ের কাজ। পাহাড়সম উঁচু করে রাখা হয়েছে বালু। ধীরে ধীরে আনা হচ্ছে পাথর। পাইলিংয়ের জন্য বড় বড় সাঁটার এনে ফেলে রাখা হয়েছে। এক কথায় সদরপুর ও বমভমি সেতু নির্মাণে কর্মযজ্ঞ চলছে দুই সেতুর দুই পাড়ে। বমভমি বাজার সংলগ্ন নদীতে আলাদা করে তৈরি করা হচ্ছে বিকল্প বেইলি সেতু।
রাণীগঞ্জ সেতু চালু হওয়ার পর থেকে ব্যস্ততা বেড়েছে পাগলা-জগন্নাথপুর সড়কের। এদিক দিয়েই অধিকাংশ দূরপাল্লার বাস ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। পণ্যবাহী অসংখ্য ট্রাকও যাতায়াত করে এ পথে। এজন্য বমভমি বাজার ও জগন্নাথপুর পার হয়ে নারিকেলতলা নামক এলাকার বেইলি সেতুকে ডাবল লেন করার দাবি রয়েছে এলাকাবাসীর। সদরপুর সেতু ও বমভমি বাজারের সেতু নির্মাণ করায় খুশি এলাকার মানুষ। তাদের দাবি, মূল সড়কের একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু নির্মাণ হচ্ছে। তাই, কোনোভাবেই যেনো নিম্নমানের পণ্য সেতু নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা না হয়।
ব্যাংক কর্মকর্তা নাহিদ হাসান নোবেল বলেন, প্রতিদিনই সুনামগঞ্জ থেকে পাগলা বাজারে অফিস করতে আসতে হয়। সদরপুর সেতুতে আসলে ভয় লাগে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির দুই দিকেই ভেঙে গেছে। বাস-ট্রাক একসাথে উঠলে সেতুটি কাঁপতে শুরু করে। এই সেতু নির্মাণের দাবি ছিলো দীর্ঘদিনের। শেষমেশ কাজ শুরু হয়েছে দেখে ভালো লাগছে। তবে, আমাদের দাবি যেহেতু একটি ব্যস্ততম সড়কে সেতু নির্মাণ হচ্ছে কাজটি যেনো ভালো হয়। না হলে সেতু টিকবে না।
দরগাপাশা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক ও বমভমি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান রিপন বলেন, বমভমি বাজারের গরুর বাজার আছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু হওয়ায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার। মানুষের দুর্ভোগ কমবে। ভালো মানের কাজ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৗশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং বলেন, বন্যা বা বৃষ্টির সময়ে কাজটি শুরু হয়েছে। তাই এই মুহুর্তে কাজে একটু ধীরগতি। আগামী সেপ্টেম্বরে কাজের গতি বাড়বে। আমরাও আমাদের নজরদারি আরও বাড়াবো। আশা করছি জুন ২০২৫ সালের মধ্যে দুইটি সেতুর কাজই আমরা শেষ করতে পারবো। সেতু নির্মাণে কোনো ধরণের নিম্নমানের পণ্য ব্যবহারের সুযোগ নেই জানিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজটি সকলের সামনেই হচ্ছে এবং হবে। তাছাড়া আমাদের প্রায় ৩-৪টি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্মাণকাজ তদারকিতে থাকবেন। এখানে গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমি কাজের মানুষ। কাজ করার সুযোগ পেয়েছি তাই কাজ করেছি। সদরপুর সেতু ও বমভমি সেতু নির্মাণে অবদান রাখতে পেরে আমারও ভালো লাগছে। কাটাখালের সেতুরও অনুমোদন হয়েছে। আগামী মাসে পাগলার মহাসিং নদীর সেতুও একনেকে তুলবো। দ্রুতই কাজ হবে আশা করছি। হাওরের উপর দিয়ে উড়াল সড়ক হবে। নতুন প্রজন্ম, মধ্য প্রজন্ম এই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে করে খুব কম সময়ে ময়মনসিংহ যেতে পারবে। এটা আনন্দের বিষয়। উন্নয়ন আরও হবে। আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে। আমাদের সব উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন