ডায়রিয়া ওয়ার্ডের মেঝেতে চলছে চিকিৎসা

প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৪ ০৮:৩৯

৩৩টি শয্যার বিপরীতে রোগী ৭৩ জন/ এবারের বন্যায় রোগের প্রকোপ কম

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। পানি কমার সঙ্গে দেখা দিচ্ছে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব। বেশী আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়া ও জ্বরে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সব বয়সি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন রোগে। বন্যায় পানিবাহিত রোগের মধ্যে অন্যতম রোগ হচ্ছে চর্মরোগ ও ডায়রিয়া। তবে অন্যান্যবারের চেয়ে রোগের চাপ কম বলছেন হাসপাতালের দায়িত্বশীলরা।
মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগে রোগী স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত চাপ ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডে মোট শয্যা সংখ্যা ৪৭টির মধ্যে ডেঙ্গুর জন্য আলাদা ১৪টি। এদিন সকাল পর্যন্ত ডায়রিয়ায় ৩৩টি শয্যার বিপরীতে ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭৩ জন। বাকি রোগীরা শয্যা না পেয়ে মেঝেতে সিট বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেককে হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতর মেঝে না পেয়ে বারান্দায়ও চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৬০ জনের উপরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 
কথা হয় হাসপাতালের বেডে থাকা রোগী সদর উপজেলার কলাইয়া গ্রামের ফাহিমা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘরে পানি উঠে নাই, তবে বাড়ির আঙ্গিনায় পানি ছিলো। তাদের টিউবওয়েলের উপরিভাগ ভাসা ছিল তাই পানির অভাব হয়নি। এই টিউবওয়েল থেকেই পানি পান করেছেন।
শান্তিগঞ্জের পাগলার ঝর্ণা বেগমের কোলের শিশুকে নিয়ে ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। তাদের টিউবওয়েল ডুবে গিয়েছিল। পাশের বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি এনে খেয়েছেন। বন্যার পানি পান করেননি কিন্তু তারপরও তার সন্তানের ডায়রিয়া হয়ে গেছে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স দোলন আক্তার বলেন, বন্যার পর রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। প্রতিদিন বেডের তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে।
তবে অন্যান্য বারের বন্যার তুলনায় এবার পানিবাহিত রোগের প্রকোপ কম বলছেন চিকিৎসকরা। এবার বন্যায় মানুষ আগে থেকেই সচেতন থাকা ও পূর্বপ্রস্তুতি রাখায় রোগের প্রাদুর্ভাব কম মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। বন্যার প্রস্তুতি হিসেবে চিকিৎসকদের নেতৃত্বে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিম গঠন করেছিল সিভিল সার্জন কার্যালয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যা হলে চর্ম রোগ, জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবার আমরা যা পেয়েছি তা খুবই কম। একেবারে নাই বললেই চলে। তারপরও যারা এসেছেন আমরা যথাযথ চিকিৎসা দিয়েছি।
আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বললেন, এবার যা রোগী আসছে বন্যার পরে তা আমাদের স্বাভাবিক সময়ের রোগীর সমান। অন্যান্য বারের মতো প্রকোপ এবার দেখা যায়নি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার