প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৪ ০৭:১৮
চিকসা গ্রামের সামনের খাল ভরাট করায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, দুর্ভোগে গ্রামবাসী
তাহিরপুরের বৌলাই নদীর পাড়ের চিকসা গ্রামবাসী পড়েছেন বিপাকে
তাহিরপুরের কয়েক কিলোমিটার বৌলাই নদীর খনন, এখন গলার কাঁটা হয়েছে গ্রামবাসির। নদী খননের মাটি দিয়ে নদী থেকে পানি নিষ্কাশনের খাল ও গ্রামের সামনে নিচু জায়গা ভরাট করা হয়েছে। এজন্য এবার সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিকসা গ্রামবাসী। গ্রামের ৫ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাদের দুঃখ এখন বৌলাই নদী।
রোববার সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কয়েক বছর আগেও চিকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি খাল ছিলো। এই খাল দিয়ে নদী থেকে হাওরে পানি চলে যেতো। গ্রামের পুরান মসজিদের পাশে ও পশ্চিমে আরেকটি সহ মোট ৪ টি খালের অস্থিত্ব ছিলো গ্রামের ভেতরে। গ্রামের পেছন দিকে নদী আর সামনে নিচু জায়গা, এরপর হাওর। বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানি এই ৪ টি খাল হয়ে গ্রামের সামনে নিচু জায়গায় প্রবেশ করে হাওরে চলে যেতো। তিন বছর আগে বৌলাই নদী খননের মাটিতে পানি চলাচলের পথ খাল ভরাট করা হয়। এছাড়াও গ্রামের সামনের নিচু জায়গা ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। এতে নদী থেকে হাওরে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়েছে। গ্রামের সামনে নিচু জায়গার ডুবা-নালা ভরাট হওয়ায় পানি যাওয়ার জায়গাও কমে গেছে। নদীতে পাহাড়ি ঢল এলে গ্রামে আঘাত হানে। নদীতে পানি না এলেও বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানি গ্রামের উপর দিয়ে ঘর-বাড়ি ভেঙে হাওরে প্রবেশ করে। গ্রামের সামনের সড়কের একাধিক জায়গা ভেসে গেছে। যেখানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন বাসিন্দারা। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ।
চিকসা গ্রামের বাসিন্দা ও এই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. সফাই মিয়া বললেন, ড্রেজার দিয়ে নদী খনন করে, সেই মাটি দিয়ে সবগুলো খাল বন্ধ করা হয়েছে। গ্রামের সামনে নিচু জায়গা ছিলো অনেক। বর্ষায় সেখানে অতিরিক্ত পানি ধারণ করতো। এই কাজের পরে নদী থেকে হাওর পানি নিষ্কাশন হয় না। পাহাড়ি ঢল এলেই পুরো গ্রামের উপর দিয়ে পানি হাওরে যায়। এতে গ্রামের সড়কের অনেক ক্ষতি হয়েছে। মানুষের ঘরবাড়ি’র ক্ষতি হয়েছে।
এই গ্রামের বাসিন্দা মো. সালেহ আহমেদ বললেন, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করে নদী খনন করা হয়েছে। নদী খননের মাটি দিয়ে খাল ও ডুবা ভরাট করা হয়েছে। এখন নদী থেকে হাওরে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। খননের পরের বছরেই নদীও ভরাট হয়ে গেছে। শুস্কু মৌসুমে হেঁটে নদী পার হওয়া যায়। নদী খনন করে আমাদের কোনো লাভ হয় নি। আরও সমস্যা বাড়ানো হয়েছে।
চিকসা গ্রামের বাসিন্দা সারমিন বেগম বলেন, নদী খননের আগে গ্রামে পানি উঠতো না। ড্রেজার দিয়ে নদী খননের পরেই আমাদের এই সমস্যা। নদীতে পানি না এলেও বৃষ্টিপাতে গ্রামে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। চলাচল করা যায় না। আর ঢল এলে বাড়ি-ঘরের উপর দিয়ে হাওরে পানি যায়।
চিকসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু নাসের বলেন, নদী খনন করে গ্রামের ডুবা-খাল- নিচু জায়গা ভরাট করা হয়েছে। একারণে নদী থেকে হাওরে পানি প্রবাহ কমে গেছে। বৃষ্টিপাত বা নদীতে একটু বেশি পানি হলেও গ্রামের উপর দিয়ে যায়। এতে গ্রামটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড’এর একজন কর্মকর্তা জানান, নয় কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালে বৌলাই নদীর ৬ কিলোমিটার খনন করা হয়। ২০২৩ সালে খননের কাজ শেষ হয়েছে।
বৌলাই নদীর মাটি চিকসা গ্রামের খালে পড়েছে কী-না, বা ওখানে আছে কী না খোঁজ নিয়ে বা সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন