প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৪ ১০:২৪
দোকানীদের দখলে থাকা সড়ক
জগন্নাথবাড়ি বাজারে দুই পাশের দোকানগুলো উঠে এসেছে সড়কে
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা জগন্নাথ বাড়ি। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই এলাকায় কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সহ প্রায় সকল পণ্যের দোকান। জেলার সকল মানুষের সমাগম হয় জগন্নাথ বাড়ি সড়কে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হওয়ায় জনগণের চলাচল সুবিধার্থে সরু এই সড়ককে সম্প্রতি ১৫-২০ ফুট ফুট প্রশস্ত করে পুননির্মাণ করেছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। এতে এই এলাকার চিরচেনা যে যানজটের চিত্র ছিল সেটি পালটে যাবে বলে আশা করেছিলেন জেলাবাসী। কিন্তু সড়ক প্রশস্ত হলেও পাল্টেনি পুরনো সেই চিত্র। সড়কের প্রবেশ মুখের একটি অংশে দেখা যায় প্রায় ১৮ ফুট সড়কের ১০ ফুটই দখল করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। একই রকম অর্ধ শতাধিক দোকানির দখলে রয়েছে এই পুরো সড়কটি। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা জমজমাট হলেও ভোগান্তিতে জনসাধারণ। চলেনা এক সাথে দুই রিক্সা। একটু পর পর লেগে থাকে জ্যাম। দুর্ভোগে আছেন খোদ পৌর সংশ্লিষ্টরাই। সম্প্রতি নতুন পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় এই সড়ক নিয়ে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ককে দখলমুক্ত করে মানুষ চলাচল উপযোগী করতে পৌরসভা ও প্রশাসনের কঠিন হস্তক্ষেপ চান সচেতন নাগরিকরা।
বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল করিম ঝুলন বলেন, আমার দোকানের সামনের সড়ক একদম খালি রেখেছি। কিন্তু লাভ কি! শুধু আমি রাখলে হবে না সবাইকে সড়ক খালি রেখে মানুষ চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।
আরেক ব্যবসায়ী প্রান্ত বলেন, সবাই দখল করে আছে তাই আমিও দখল করে ব্যবসা করছি। সবাই সরে গেলে আমিও থাকবনা।
ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহেদ হাসান বলেন, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
সুনামগঞ্জের সচেতন নাগরিক অ্যাড. এনাম আহমেদ বলেন, শহরের কালীবাড়ি এলাকা থেকে মাছ বাজার উঠেছে। পুরাতন জেল রোড থেকে সবজি বাজার উঠেছে। জগন্নাথ বাড়ি সড়ক থেকে দোকান ওঠা কঠিন কিছু না। প্রশাসন ও পৌরসভা চাইলেই একদিন অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করতে পারে। যারা দখল করে আছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনলেই পরবর্তীতে আর কেউ সড়কে দোকান নিয়ে বসবেনা।
এই এলাকার বাসিন্দা পৌর কাউন্সিলর সামিনা চৌধুরী মনির কাছে দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজে উল্টো অভিযোগ করে তার দুর্ভোগের কথা জানান। সামিনা বলেন, আমি প্রত্যেকদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় আমার। রিক্সা নিয়ে বাসায় ঢুকতে পারিনা সড়ক দখল করে বসে আছেন দোকানদারা। আমরা তুলে দিলে আবার বসে যায় তারা। এরকম ভাবেই চলছে। শুধু দখল নয় তাদের দোকানের পচা ময়লা আবর্জনাও এতো সুন্দর সড়কে ফেলে সড়ক নষ্ট করছে। মেয়র মহোদয়ের সাথে এই বিষয় নিয়ে বার বার কথা বলেও কাজ হচ্ছেনা।
ব্যর্থতার একই গল্প বললেন স্থানীয় কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ। বললেন, এতো সুন্দর সড়ক করে কোন লাভ হলো না। তারা দোকানের ময়লা আবর্জনা সড়কে ফেলে। আমি প্রত্যেক পৌর পরিষদের সভায় মেয়র মহোদয়ের কাছে এই বিষয় তুলে ধরি। মেয়র মহোদয়কে এই বিষয়ে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই বিষয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখতকে মোবাইল ফোনে না পেলেও নির্বাহী প্রকৌশলী কালীকৃষ্ণ পাল বলেন, এটা পৌরসভার নীতি নির্ধারক যারা আছেন তাদের বিষয়। তারা সিদ্ধান্ত দিলে আমি বাস্তবায়ন করবো। আগামীতে উচ্ছেদের চেষ্টা করবো।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ চৌধুরী বলেন, আমিও চাই শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুক। পৌরসভার পক্ষ থেকে কেউ আসুক আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন