তীব্র গরমে ভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৪ ১০:৩৪

তপ্ত রোদে কাহিল রিক্সাচালক বিশ্রাম নিচ্ছেন বৃক্ষের ছায়ায়। শুক্রবার দুপুরে ছবিটি জেলা পরিষদের সামনে থেকে তোলা

তীব্র তাবদাহে জনজীবনে ভোগান্তি চরমে। গত দুইদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির উপরে থাকায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। গুগল ওয়েদার ফরকাস্ট অনুযায়ী শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টার পরে সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠেছে। এসময়ে ৩৭ ডিগ্রি হলেও গরম অনুভূত হয়েছে ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। কয়েকদিন ধরে হঠাৎ এমন গরমে নাজেহাল মানুষ। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষেরা রয়েছেন কষ্টে।


গেল মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিলো ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপরের দিন বুধবার ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভূত হয়। অবশ্য বৃহস্পতিবার ১ পয়েন্ট কমে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে। তবে শুক্রবার আবারও তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর ছুঁয়েছে। এতো গরমে স্বাভাবিক জীবনযাপন অবনতি হয়েছে। 


এমন গরমের সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা মানুষেরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছেন না। বিঘ্ন ঘটছে দৈনন্দিন কাজকর্মে। জরুরি কাজ না থাকলে বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। জীবিকার তাগিদে গরম উপেক্ষা করে ঘামে ভিজেই কাজ করছেন শ্রমজীবীরা। তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন।


শুক্রবার দুপুরের পরে পৌর শহরে মানুষের চলাচল সীমিত ছিলো। নিম্ন আয়ের মানুষ যারা কাজে বের হয়েছিলেন তাদেরও গাছের ছায়ার বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে।
তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম লাইড়েরগড়ের বাসিন্দা খুচরা দোকানী মো.সুলেমান মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত গরম। দোকানে বসা যায় না। ফ্যানের বাতাসও যেন শরীরে এসে অগ্নিস্পলিঙ্গের মত লাগে। দোকানে কোমল পানীয় বিক্রি বেড়েছে। যারাই এসেছেন, ফ্রিজের ঠান্ডা কোমল পানি কিনছেন। গরমে একমাত্র ঠান্ডা পানি মানুষকে শান্তি দিচ্ছে।


শহরের রিকশা চালক তৌফিক বললেন, সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। কিছুক্ষণ চালিয়েছি। এখন আর পারছি না। তাই রিকশা নিয়ে গাছের নিচে বসে আছি।  
অটোরিকশা চালক সুমন বর্মন বলেন, সকালে কিছু সময় গাড়ি চালিয়েছি। অতিরিক্ত গরমের কারণে সকাল ১০ টায় বাড়িতে চলে গেছি। বিকাল ৫টার পরে আবারও গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি।


এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আজ সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে । সেই সাথে সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। আগামী  ২৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, এ সময় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে ।


পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বাড়তি অংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার