প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৪ ০৭:২১
কোনা জাল দিয়ে ছোট মাছ ও মা মাছ জাতীয় পোনা মাছ আহরণে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হাওরপাড়ের জেলেরা। প্রতি রাতে উপজেলার শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, সমসার হাওর, মহালিয়া হাওর ও টাঙ্গুয়ার হাওরে সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে কোনাজাল দিয়ে হাওরে মাছ ধরতে থাকে। কোনা জাল দিয়ে হাওরে মাছ ধরতে ইজারাদারের নিয়োজিত পাহারাদারগণ জেলেদের বাধা দিলেও তারা জেলেদের দ্বারা মারধরের শিকার হতে হয়।
তাহিরপুর উপজেলা মৎস্য অফিসসূত্রে জানা যায়, উপজেলার যে সমস্ত জলমহাল ইজারা হয়নি সে সমস্ত জলমহালে জেলেরা কোনা জাল দিয়ে মাছ আহরণ বেশী করে। উপজেলার শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওরপাড়ের জেলেরা কোনা জাল দিয়ে মাছ আহরণের তৎপরতা খুব বেশী। এর মধ্যে মাটিয়ান হাওরপাড়ের কাউকান্দি গ্রাম ও বড়দল গ্রামের সামনে মাটিয়ান হাওরে কোনা জাল দিয়ে মাছ ধরার তৎপরতা বেশী।
মাটিয়ান জলমহালের উন্নয়ন স্কীমের ইজারাদার, ভাটি তাহিরপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবাইয়াত আলম রুবেল জানান, আমরা ছোট জাল দিয়ে হাওরে মাছ ধরতে জেলেদের কোন বাধা দেই নি। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত ও জলমহাল নীতিমালা অনুযায়ী জেলেদের কোনাজাল দিয়ে মাছ ধরতে বাধা নিষেধ করি। এরপরও জেলেরা জোরবরদস্তি করে হাওরে মাছ ধরে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, হাওরে কোনাজাল দিয়ে মাছ ধরার কারণে বাজারে এখন দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। সমস্য দূরীকরণে উপজেলা মৎস্য অফিস হাওরে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইউসূফ আলী বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে আমরা প্রায় সারা বছরই অভিযান পরিচালনা করে থাকি। অভিযান পরিচালনার সময় জেলেদের পরামর্শ দেই তারা যেন কোনা জাল দিয়ে মাছ না ধরে- ছোট জাল দিয়ে হাওরে মাছ আহরণ করে। এতে করে মা জাতীয় পোনা মাছ বিনষ্ট হবে না এবং হাওরে মাছের বংশ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও জানান, গত রবিবারে মাটিয়ান ও টাঙ্গুয়ার হাওরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২টি কোনা জাল, ১০টি রিং চাঁই, ২ গাইড কারেন্ট জাল ও প্লাস্টিক চাঁই আটক করে পুড়ানো হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ২ লক্ষাধিক টাকা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন