প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৪ ০৭:০০
শেখ হাসিনা পতনের ঐতিহাসিক বিজয়ের জোয়ার ছিল মঙ্গলবারও। খন্ড খন্ড বিজয় মিছিলের ঢেউয়ে উত্তাল ছিল সুনামগঞ্জ শহরে। হাসিনা বিরোধী স্লোগান আর হাসি ছিল সবার মুখে। বাঁধ ভাঙা উল্লাস লক্ষ করা যায় মিছিলে মিছিলে। বিজয় মিছিলে সকাল থেকে সন্ধ্যা ব্যস্ত ছিল সুনামগঞ্জের প্রধান সড়কগুলো। সবার লক্ষ্য ছিল আলফাত স্কয়ার এলাকা। এখানে এসে সমাবেশ করেন সবাই।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কে দেখা যায় নানা বয়স আর পেশার মানুষের উপস্থিতি। রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক কর্মী, ধর্মীয় সংগঠন, সাধারণ মানুষের খন্ড খন্ড মিছিলে যেন মিছিলের শহরে পরিণত হয়েছিল শহর। সকালে শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ধর্মের মানুষদের নিরাপত্তা ও সহিংসতা বন্ধের আহবান জানায় সাংস্কৃতি কর্মীরা। জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল’র নেতৃত্বে শহরে শোডাউন দেয়া হয়। তবে এসময় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দোকানে দোকানে গিয়ে দোকান খোলার আহবান জানান তারা। এছাড়াও মিছিল করেছে অগনিত সংগঠন ও সাধারণ মানুষরা।
আলফাত স্কয়ারের সেন্ট্রাল ফার্মেসীর কর্মী পন্টি জানান, আজ সারাদিনই মিছিল হচ্ছে। একটু পর পর স্লোগান শোনা যাচ্ছে। কত মিছিল হয়েছে ঠিক গুনে হিসেব রাখা যাবে না।
শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক কর্মী দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, আমরা আন্দোলনে সুনামগঞ্জের শিক্ষার্থীদেরকে সাহস যোগাতে তাদের পাশে ছিলাম। অনেক কষ্ট করে অর্জিত এই নতুন স্বাধীনতা যেন ম্লান না হয়, সেই দিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্য ধর্মের মানুষকে যেন আক্রমণ না করা হয়। কোন মন্দিরে যেন কেউ আঘাত না আনে। কোন সরকারি সম্পদের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব সহিংসতার মোকাবেলা করবো।
বিভিন্ন সংগঠনের বক্তারা বলেন, ’৭১ এর পর দেশ আজ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে। মানুষ তার কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। স্বৈরাচার শাসক শেখ হাসিনার পতন দেশবাসী ঐতিহাসিক দিন হিসেবে মনে রাখবে। তবে শুধু পতন নয় ১৬ বছরের গুম, খুন, নির্যাতন, লুটপাটের বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই আন্দোলন সফল হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন