ঘুষের টাকাসহ আটক ওষুধ প্রশাসনের কর্মচারী

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৪ ০৬:২৬

ফার্মেসীর ড্রাগ লাইসেন্স আবেদনের পর লাইসেন্স প্রদানের সময় ঘুষের টাকা সহ সুনামগঞ্জ ওষুধ প্রশাসনের এক কর্মচারীকে আটক করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে মো. ফাহিম মিয়া নামের এক অফিস সহায়ককে আটক করে তারা। এসময় অফিসের পাশের রুমে থাকা ওই কর্মচারীর বিছানার নিচ থেকে অবৈধ লেনদেনের তালিকা ও ওষুধ প্রশাসনের সীলমোহর যুক্ত কাঁচা ঘুষের ভাউচারও উদ্ধার করা হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৪ বছরে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণের একটি তালিকা তারা পেয়েছেন। 
বড়ছড়া জয় বাংলা বাজারে ফার্মেসীর মালিক মো আমিনুল ইসলাম বলেন, ওষুধ প্রশাসন থেকে একবার অভিযানে গিয়ে আমার লাইসেন্স পায় নি। তাই এই অফিস থেকে লাইসেন্স নিতে বলে। আমি লাইসেন্স করতে আসলে ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানায়। পরে ২০ হাজার টাকায় রাজি হয় এরা। আবেদন করার সময় দশ হাজার টাকা দিয়েছি। একটা সাদা কাগজে সীল দিয়ে দশ হাজার টাকার ডকুমেন্ট দেয়। আজকে বাকি টাকা দেয়ার শেষ সময় ছিল, তাই বাকি টাকা দেয়ার আগে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে আসি। তারা এসে ঘুষের টাকা নেয়ার সময় হাতেনাতে তাকে আটক করে।
উসমান, নিহাল ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলেন  দু’হাজার আটশো টাকা লাগে লাইসেন্স করতে, সেই জায়গায় তারা ১০ হাজার থেকে পঁচিশ হাজার টাকা রাখছে। এমন খবর আমাদের জানালে, আমরা হাতেনাতে ঘুষের টাকাসহ এক কর্মচারীকে আটক করি। পরে তার বিছানার নিচ থেকে আনুমানিক ২৪ লক্ষ টাকা অবৈধ লেনদেনের একটি তালিকা পাই। যেখানে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১২২ টি ফার্মেসী মালিকদের কাছ থেকে নেয়া টাকার অঙ্ক ও নাম আছে। এসব টাকার ভাগ বাটোয়ারা কোথায় যায় তারও একটি তালিকা পাই। তালিকায় ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন আহম্মদ হোসেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম আছে। 
নারায়ণতলা চৌমুহনী বাজারের ফার্মেসী মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, আমার কাছ থেকেও ২৫ হাজার টাকা নিয়েছে, কিন্তু এখনো লাইসেন্স পাইনি। তালিকায় আমার নামও পাবেন। 
ঘুষ নেয়ার কথা স্বীকার করে অফিস সহায়ক মো. ফাহিম মিয়া বলেন, আমি এসব টাকা নেই না। আমি শুধু উঠাই। ওষুধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট,  স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে টাকা যায়। আমার টাকা নেয়া অন্যায় হয়েছে, আমি ভুল করেছি। 
এসময় ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক সহ অন্য কোন কর্মকর্তা কর্মচারীকে পাওয়া যায় নি। আটক কর্মচারীর কাছ থেকে ওষুধ তত্ত্বাবধায়কের মোবাইল নম্বর নিয়ে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
সুনামগঞ্জের সাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বর্তমানে দিনাজপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বললেন, আমি ফার্মেসীর লাইসেন্স বিষয়ক সভায় সুনামগঞ্জে থাকাকালে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকবার যোগদান করেছি। এ বিষয়ে সরকারি ফি’এর বাইরে অর্থ লেনদেন হয় এটা আমার জানা ছিল না। কেউ ওই সময়ে কোন অভিযোগও করে নি। এই বিষয়ে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজনই এর জবাব দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিন কয়েকমাস আগেই এখান থেকে বদলি হয়েছেন। তার নাম কীভাবে আসলো যাচাই করে দেখতে হবে।


 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার