প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২৩ ০৬:৩৭
প্রায় শেষ পৌর শহরের ৫ খাল উদ্ধার কার্যক্রম
উদ্ধারের পর শহরের বুক চিরে এঁকেবেঁকে বয়ে যাওয়া কামারখাল
দীর্ঘ দেড় যুগ পর সুনামগঞ্জ পৌর শহরের জনমানুষের আশা আকাঙ্খা পূরণ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৫টি খাল প্রায় দখলমুক্ত। শুধুমাত্র কামারখাল অংশের মহিলা কলেজ এলাকার একটি দ্বিতল বাড়ির কিছু অংশ উচ্ছেদের বাকি। সেটাতেও লাল চিহ্ন দিয়ে রেখেছে প্রশাসন। নিজ থেকে ভেঙে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাড়ির মালিক। না ভাঙলে সেটিও ভাঙতে প্রস্তুত জেলা প্রশাসন। ৫টি খালের অংশে থাকা সীমানা দেয়াল, ঘরবাড়ি, মাদ্রাসা, অট্টালিকা সহ নানা অবকাঠামো ইতোমধ্যে ভেঙে উদ্ধার হয়েছে খাল। ভাঙা থেকে বাদ পড়েনি সরকারি প্রতিষ্ঠানও। খালের দখলে থাকা সবকিছুকে উপড়ে ফেলে দখলমুক্তের তালিকায় বড়পাড়া খাল, তেঘরিয়া খাল, কামারখাল, নলুয়াখালী খাল ও বলাই খাল।
তবে কিছু কিছু জায়গায় ব্যতিক্রমও ছিলো। নিজ থেকে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করেছেন দখলদাররা। প্রশাসনের নোটিশেই অনেকে নিজ থেকে ছেড়ে দিয়েছেন জায়গা। কেউ কেউ নিজের স্থাপনা নিজেই ভেঙে নিয়েছেন। শুধু এই উচ্ছেদের পরেই খালগুলো এখন পানি প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার তৎপরতায় ও হাইকোর্টের নির্দেশে খাল উদ্ধার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী এবং পৌরসভার মেয়র নাদের বখত। উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করেছেন পুলিশ সুপার মো. এহসান শাহ। তবে শুধু উচ্ছেদ করলেই শতভাগ ফলাফল আসবে না। খালগুলোকে সংরক্ষণ করে সঠিক পরিকল্পনা মাধ্যমে একটি সুন্দর শহর উপহারের তাগিদ সচেতন নাগরিকদের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সুরমা নদী থেকে উত্তর আরপিননগরের বিভিন্ন মহল্লায় সাপের মতো এঁকেবেঁকে একেবারে দক্ষিণ প্রান্তের ঝাওয়ার হাওরে গিয়ে পড়েছে কামার খাল। এই আঁকাবাঁকা খালের সীমানা এখন দৃশ্যমান। একসময় বড় বড় নৌকা চলাচল করা এই খালে গভীরতা না থাকলেও খালের উপর নেই কোনো স্থাপনা বা দখলদার। পৌর মিনি মার্কেট সংলগ্ন কালভার্টে দাঁড়িয়ে পশ্চিম প্রান্তে তাকালে স্পষ্ট দেখা যায় মেজর ইকবাল রোডের গাড়ি চলাচল এবং দক্ষিণে তাকালে নজরে পড়ে পুরাতন ক্রীড়া সংস্থা। যা গত ১৮ বছরে কেউ দেখতে পায়নি। শুধু কামারখাল নয়, শহরের ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় থাকা এ রকম আরও চারটি খাল এখন দখলমুক্ত।
সাংবাদিক দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, প্রশাসন ও পৌরসভাকে এই সাহসী কাজের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। একই সাথে উচ্ছেদের মতো সংরক্ষণও জরুরি। খাল উদ্ধারের পর সংরক্ষণ না করলে আবার তা দখল হবে। এক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ পৌরসভা উন্নত শহর গড়ার লক্ষ্যে সিসিকের মতো খালের দুইপাশে দেয়াল দিয়ে পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে বা ফুটপাত তৈরি করতে পারেন। এতে খালের পাড় দিয়ে হেঁটে শহরের একপাশ থেকে অন্যাপাশে যাওয়া যাবে। সংস্কৃতিকর্মীরা ফুটপাতে বসে গান বাজনার মাধ্যমে সংস্কৃতি আড্ডা দিতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা এসে শিক্ষা আড্ডা দিতে পারবে। প্রবীণরা সকালে কিংবা বিকালে হাঁটতে পারবেন। শহরে একটু নিঃশ্বাস নেয়ার জায়গা তৈরি হবে।
জেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার বলেন, স্থায়ীভাবে পাকা খুঁটি বসিয়ে খালের সীমানা নির্ধারণ করে স্থানীয়দের চলাচলের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা দরকার। খালের দুই পাশে ফুল বা পাতাবাহারি গাছ লাগানো যেতে পারে। তবে এসব রক্ষণাবেক্ষণে পৌরসভা ও স্থানীয়দের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
পৌর মেয়র নাদের বখত বললেন, বৃষ্টির পানিতে বারবার আমরা পৌরবাসী জলাবদ্ধতা ও বন্যায় আক্রান্ত হই। সেই দিক বিবেচনা করে অনেকে নিজে থেকে দখল ছেড়ে দিয়েছেন। বাকি যারা ছিল প্রশাসনের সহযোগিতায় উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে একজন স্থপতিকে আমাদের খালগুলো দেখিয়েছি। এখন ডিজিটাল সার্ভে হবে। ডিজিটাল সার্ভের পর আমাদের প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসন, সচেতন নাগরিক সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিব কীভাবে আমরা এটাকে দৃষ্টিনন্দন রূপ দিতে পারি। আমরা ওয়াকওয়ে সহ বসার জায়গা নির্মাণ করতে চাই। একই সাথে যেন খালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পানি প্রবাহ ঠিক থাকে সেই ব্যবস্থাও হবে। সেক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বললেন, আমাদের প্রশাসনের মূল কাজ খাল উদ্ধার করা। উদ্ধার অভিযান প্রায় শেষ হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো শেষ ঘোষণা হয়নি। উদ্ধারের পর এর সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্ব পৌরসভার।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন