ডিউটি না করেই বেতন

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৩ ০৭:৫৯

তাহিরপুরে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় জনবল নিয়োগ

সংবাদ না করতে পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে প্রতিবেদককে টাকা দেওয়ারে চেষ্টা করছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন। ছবি- সু.খবর

তাহিরপুর উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় দুই বছর ধরে চারশ কর্মী কাজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মীদের বেশিরভাগেই অফিস না করে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তুলছেন সম্মানী ভাতার টাকা। এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, শতভাগ কাজ কোথাও হয় না জানিয়ে এই প্রতিবেদককে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বললেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অতিথি পরায়ন। আতিথেয়তার অংশ হিসেবে এই চেষ্টা করে থাকতে পারেন।


কাগজে কলমে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ৪৫৮ জন কর্মী। তাদের অনেকেই অনিয়মিত অফিস করছেন, কেউবা করছেনই না। তবে তদারকির দায়িত্বে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নিয়মিত তুলছেন সম্মানী ভাতা। সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার মধ্যে একমাত্র হাওরাঞ্চলের উপজেলা তাহিরপুরে সরকারের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির এই অতিরিক্ত জনবল রয়েছে।


জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছির আলম বললেন, আমার বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪ জন সংযুক্ত রয়েছেন। তারা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না। আমাদের প্রয়োজনে ডাকতে হচ্ছে। নয়তো তাদের প্রয়োজনে তারা আসছে। তিনি বলেন, সরকার যে উদ্দেশ্যে তাদের সংযুক্ত করেছিল, সেটি সফল হয় নি। কারণ পেশা হিসেবে কাজটাকে গ্রহণ করতে পারে নি তারা।


বালিজুরী হাজী এলাহী বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান বললেন, জুলাই মাসের শুরু থেকে এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি। আজকে খোঁজ নিয়ে দেখলাম বিদ্যালয়ে ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় ২ জন ছিলেন। একজন নিয়মিত আসেন। আরেকজন আসেন না।


তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় থাকা কর্মীদের হাজিরা খাতায় দেখা যায় ৩ জন সংযুক্ত রয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানে ৩ জনের মধ্যে কেবল জুলাই মাসে একজন ১০ দিন উিউটি করেছেন। বাকী দুইজন অনুপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠান প্রধান মো. ইয়াহিয়া তালুকদার বললেন, তাদের দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ হয় না। অনিয়মিত এসব কর্মীদের তদারকিও তারা রাখেন না। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রতিমাসে তাদের কাজের প্রত্যায়নপত্র দেন বলে দাবি করলেন তিনি।


উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কার্যালয়ে, নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে, কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণি সম্পদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, সমাজসেবা, সমবায়, পরিসংখ্যান, পল্লী উন্নয়ন, শিক্ষা অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রকৌশল অফিস, পরিবার পরিকল্পনা, যুব উন্নয়ন, আনসার ভিডিপি, সহকারী প্রকৌশলী, খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সরকারি গ্রন্থাগারসহ ৭ ইউনিয়ন পরিষদে মোট ৪৫৮ জন কর্মী সংযুক্ত রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কাজ করছেন ৩ টি প্রতিষ্ঠানে। সেগুলো হলো শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে ১৮৮,  মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৫৫ ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৫১ জন। এসব অফিসে সরজমিনে গিয়ে দুই-এক জন ছাড়া বেশিরভাগ কর্মীদের পাওয়া যায় নি।


তাহিরপুর যুব উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন অনিয়মের ব্যাপারে প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও পরে, শতভাগ কাজ কোথাও হয় না জানিয়ে এই প্রতিবেদককে টাকা দেবার চেষ্টা করলেন। তিনি বললেন, আমাদের অফিসে জনবল কম। এজন্য পুরোপুরি তদারকি করা সম্ভব হয় না।


বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমাও তেমন গুরুত্ব দিলেন না, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে অতিথি পরায়ন আখ্যা দিয়ে বললেন, অতিথেয়তার অংশ হিসেবে কিছু টাকা দেবার চেষ্টা করেছেন হয়তোবা তিনি। তবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবার কথাও জানান তিনি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার