প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:৫৩
তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক
তাহিরপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে ‘তাহিরপুর—বাদাঘাট’ সড়কটি গত ৩০ বছরেও চলাচলের উপযোগী হয়ে গড়ে উঠেনি। ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকার আমলে সড়কের নির্মাণ কাজ হয়েছিল। পাহাড়ি ঢলে এবং কয়েক দফা বন্যায় সড়কটির বিভিন্ন স্থান ভেঙে পড়ে। সড়কটিতে মাঝে মধ্যে নামকাওয়াস্তে কিছু কাজ হলেও আজও চলাচলের উপযুক্ত হয়নি। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষজন চলাচল করে থাকেন। এ সড়কটি পুনরায় নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী বার বার দাবি জানিয়ে আসলেও আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরেও দেখার মতো কোন কাজ হয় নি।
স্থানীয়রা জানান, বিএনপি সরকার আমলে তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়কটি নির্মাণ হওয়ায় আওয়ামী সরকারের এমপিরা হিংসা পরায়ণ হয়ে কালক্ষেপণ করে সড়কে কোন কাজ করেন নি। নির্বাচন এলে এমপি ও নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসীকে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সড়কটি নির্মাণ হয়নি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় সরকারের প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত ৮ কিলোমিটার সড়কের ভেতরে পাতারগাঁও নামক স্থানের অংশে একশো মিটারের মধ্যে রয়েছে ১০টি কালভার্ট। যা কিছুদিন পরেই ভেঙে নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এলজিইডির ভুল পরিকল্পনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেশিদিন টিকেনি। এ সড়ক দিয়ে বর্তমানে যানবাহন চলাচল দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাহিরপুর সীমান্তবর্তী উত্তর বড়দল, উত্তর শ্রীপুর ও বাদাঘাট ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের সদরে সড়ক পথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যমে এই সড়কটি। বাদাঘাট বাজারটি উপজেলার মধ্যে বড় বাজার। এ বাজার থেকেই ছোট—বড় বাজারগুলোতে পণ্য সরবরাহ হয়ে থাকে। সড়কটি চলাচলের উপযোগী না হওয়ায়
এ বাজার থেকে মালামাল পরিবহনে ব্যবসায়ীদের পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। এছাড়াও তাহিরপুর সীমান্ত এলাকায় বড়ছড়া, চারাগাঁও, বাগলী সহ তিনটি স্থল শুল্ক বন্দর রয়েছে। ওখানকার কয়লা পাথরের ব্যবসায়ীরা এ সড়ক দিয়েই সদরে গিয়ে ব্যাংকে লেনদেন করতে হয়। অপরদিকে খনিজ বালু ও পাথর যাদুকাটা নদী থেকে সংগ্রহ করে এ সড়ক দিয়েই মালামাল পরিবহন করতে হয়। পর্যটন স্পট শিমুল বাগান, বারিক্কা টিলা, নীলাদ্রী লেক ও লাকমা ছড়াতে সরাসরি গাড়ি দিয়ে উপজেলা সদর থেকে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সড়ক। সড়কটির হুসনার ঘাট থেকে পাতারগাঁও পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা। এরমধ্যে এক কিলোমিটার পার হতে হয় ছোট নৌকা যোগে। বাকি এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যেতে হয়। সড়কের দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের টাকাটুকিয়া ব্রিজের উত্তর অংশের মাটি সরে গেছে। হুসনার ঘাট থেকে জামালগড় রাস্তার সম্মুখ এবং পাতারগাঁও থেকে বাদাঘাট বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বাদাঘাট বাজারে ব্যবসায়ী খোকন মিয়া জানান, সপ্তাহে তিন—চার দিন লেনদেন করতে উপজেলা সদরে যেতে হয়। ১৫ মিনিটের রাস্তা যেতে হয় দেড় ঘন্টায়। বৃষ্টি হলে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মোটরসাইকেল চালক আউয়াল বলেন, এ সড়ক দিয়ে যাত্রি নিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ। একটু বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাও ঘটে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরেও আওয়ামী সরকার এলাকার থেমন কোন উন্নয়ন করেনি। বিএনপি সরকারের আমলে এ সড়কের কাজ শুরু হয়েছিল। পরে আওয়ামী সরকারের এমপিরা হিংসা পরায়ণ হয়ে কাজ করেনি। অথচ তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়কটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গেলে সবার আগে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সাজু আহমেদ জানান, তাহিরপুর— বাদাঘাট সড়কটি উড়াল সড়কের আওতায় এসেছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন