প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:৪৮
তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক
তাহিরপুর উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়কটি ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর তারিখে দরপত্র আহবান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তাহিরপুর উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্মাণ কাজটি দুইটি প্যাকেজে হবে। তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি পর্যন্ত প্যাকেজ দুইটি হলো— তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে উছনাঘাট পর্যন্ত একটি প্যাকেজ এবং দ্বিতীয় প্যাকেজটি হলো— উছনারঘাট থেকে সুন্দরপাহাড়ি পর্যন্ত। দ্বিতীয় প্যাকেজের উছনারঘাট থেকে সুন্দরপাহাড়ি পর্যন্ত ৯৩ কোটি টাকায় কার্যাদেশ পায় ঢাকাস্থ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নবারুন কন্সট্্রাকসন। অপরদিকে প্রথম প্যাকেজের তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে উছনাঘাট পর্যন্ত অনুমোদিত কাজ সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহবানের অনুমোদন হয়েছে।
জেলার সবচেয়ে বৃহৎ হাট বাদাঘাট বাজার। যে কারণে তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়কটি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সকল শ্রেণীর লোকজন ব্যবহার করে থাকেন। তাছাড়াও তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর উপজেলার অনেক ক্রেতা বিক্রেতাও বাদাঘাট বাজারের সপ্তাহের রবিবার ও বৃহষ্পতিবারের হাটে কেনাবেচাতে অংশগ্রহণ করে থাকেন।
তাহিরপুর বাজারের সবজি বিক্রেতা অমিত রায় বলেন, তাহিরপুর বাদাঘাট সড়কটি ৪/৫ স্থানে ভাঙা থাকার কারণে বাদাঘাট থেকে তাহিরপুর বাজারে মালামাল পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়ে পড়ে। রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে মালামাল পরিবহন খরচ অনেকটাই কমে যাবে।
বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ জুনাব আলী বলেন, বাদাঘাট—তাহিরপুর সড়কটি ভাঙা থাকার কারণে খেয়া নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়। যে কারণে ১৫ মিনিটের রাস্তা দেড় ঘন্টায় পারি দিতে হয়। ফলে আমাদের ছোট একটি কাজের জন্য তাহিরপুরে আসা যাওয়া করতে পুরো দিন ব্যয় করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, শুনেছি বিগত সরকারের আমলে তাহিরপুর বাদাঘাট সড়কের উছনার ঘাট থেকে সুন্দরপাহাড়ি পর্যন্ত প্রায় একশ কোটি টাকা ব্যয়ে টেন্ডার করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শুরু করার দাবি জানান তিনি।
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার দ্রুত সময়ের মধ্যে বাদাঘাট—তাহিরপুর সড়কের কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরু করার জন্য অনুরোধ জানান।
বাদাঘাট বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়কটি নির্মাণ হলে আমরা কাপড় ব্যবসায়ীরা ঢাকা থেকে মালামাল কিনে সরাসরি গাড়ি নিয়ে বাদাঘাট বাজারে সহজে আসতে পারবো। এতে করে আমাদেও পরিবহন খরচ অনেকটাই কম পড়বে।
নবারুন কন্সট্রাকসনের নির্মাণ কাজের নিয়োজিত প্রকৌশলী চিন্ময় বিশ্বাস বলেন, টেন্ডার হয়েছে বিগত সরকারের আমলে কিন্ত কাজের ওয়ার্ক অর্ডার পেতে অনেক দেরী হয়েছে। তাছাড়া কর্মএলাকার উভয় দিকে পানি থাকার কারণে নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আশা রাখছি আগামী দুই, একমাসের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু করবো।
উছনারঘাট থেকে সুন্দরপাহাড়ি পর্যন্ত নির্মাণ কাজের তদারকি কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তাহিরপুর এর উপসহকারী প্রকৌশলী শামছুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন বলছে তারা খুব শিঘ্রই কাজ শুরু করবেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নবারুন কন্সট্রাকসনের ঠিকাদারকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। তারা বলেছে, কিছুদিনের মধ্যেই নির্মাণ কাজের যাবতীয় মালামাল সাইটে নিয়ে আসবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন