চানপুর সাদা পাথর ছড়ায় পর্যটকদের ভিড়

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২০:৩৮

তাহিরপুর উপজেলার দৃষ্টিনন্দন চানপুর ছড়ায় পর্যটকদের ভিড় জমেছে। শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো পর্যটক এসেছেন। চানপুর ছড়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সংগঠন এবং সংস্থার নামে টি-শার্ট পরে আনন্দ করতে দেখা গেছে অনেককেই। আবার কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে এসে সাদা পাথরের দৃশ্য দেখছেন, কেউবা পাহাড় ঘেঁষে সাদা পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানিতে হাঁটছেন।


মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশাপাশি শহিদ সিরাজ লেক, ট্যাকেরঘাট, বারেকটিলা, যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগানসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন পর্যটকেরা, এমনটাই বলেছেন তারা।  মেঘালয় পাহাড় থেকে বয়ে আসা ছড়াগুলো পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণীয় স্থানে পরিচিতি পেয়েছে।


এসব ছড়াগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে পানি কম থাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি একটু কম থাকে। তবে বর্ষায় ছড়াগুলোর নান্দনিকতা বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে বর্ষায় ছড়াগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। প্রতিটি ছড়াই ভারত থেকে প্রবাহিত হয়ে এই উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে প্রবেশ করে টাঙ্গুয়ার হাওরে মিশেছে। এখানকার পরিবেশ আর পাহাড়ের সৌন্দর্যকে অবলম্বন করে আগত পর্যটকদের কিছু সুবিধা দিয়ে এখানকার বেকার যুবকদের নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে বলে জানান  মোটর বাইক চালকেরা।


সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সীমান্ত ঘেঁষা লাকমা ছড়া, লালঘাট ছড়া, রাজাই ঝর্ণা, চাঁনপুর ছড়া, ট্যাকেরঘাট ছড়া, কলাগাঁও ছড়া ও বীরেন্দ্রনগর ছড়া দিয়ে প্রবল বেগে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় নালাগুলো বড় হয়েছে। ফলে এসব ছড়ায় এখন সারা বছরই পানি থাকে। যারা টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে আসেন তারা রাতে ট্যাকেরঘাট এলাকায় রাত্রিযাপন করেন। সেজন্য টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে কেউ দুপুরে কেউবা বিকালে ট্যাকেরঘাট এসেই চানপুর ছড়ায় ভিড় করেন।

 


রাজধানী ঢাকা থেকে আসা নাঈম ইসলাম বলেন, একদিন আগে টাঙ্গুয়ার হাওরে এসেছি। আজকে চানপুর ছড়ায় এসেছি। এসে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা সাদা পাথর, পাহাড় বেয়ে আসা স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানিতে ভিজে এনজয় করছি, খুব ভালো লাগছে।


দিনাজপুর থেকে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এসেছেন ২৭ জন পর্যটক। সংগঠনের টিম লিডার আব্দুল রাইহান বললেন, সাদা পাথর, পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ এবং ঠান্ডা পানি পাহাড়ের উপর থেকে বেয়ে পাথর ঘেঁষে হাওরে প্রবেশ করছে, খুবই চমৎকার লাগছে। আমরা পানিতে ভিজে এনজয় করছি।

 


খুলনা থেকে স্ব পরিবারে এসেছেন ইঞ্জিনিয়ার সুদীপ্ত সাহা। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের এই জায়গাগুলো চমৎকার। খুব ভালো লাগছে। তবে এলাকার যোগাযোগ সড়কের খুবই খারাপ অবস্থা। এগুলো মেরামত করে দিলে পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য আরও ভালো হবে।


রংপুর থেকে এসেছেন রেজওয়ানা বেগম। তিনি বলেন, অসাধারণ দৃশ্য। সাদা পাথর, স্বচ্ছ পানি, পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেখতে চমৎকার। এগুলো দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি, খুবই আনন্দ লাগছে।
ব্যাংক কর্মকর্তা রেজাউল করিম বললেন, আমার সন্তানদের বায়না ছিল টাঙ্গুয়ার হাওরে আসবে। আমি ছুটি নিয়ে স্ব পরিবারে এসেছি। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেক, চানপুর ছড়ায় ভিজে এনজয় করছি। খুব ভালো, আমি এগুলো দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমার সন্তানেরা খুবই খুশি, আনন্দ করছে। আমার মনে হয়, প্রত্যেকেরই একবার অবসরে এই এলাকায় আসা উচিত।

 


তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট এলাকার বাইক চালক আক্কাস আলী বলেন, তাহিরপুর উপজেলার যে টুরিস্ট স্পটগুলো রয়েছে, এই স্পটগুলোতে সপ্তাহের তিনদিন, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং শনিবারে ভিড় হয়।চানপুর ছড়ায় আজকে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক এসেছেন। এছাড়াও অন্যান্য দিনগুলোতে পাঁচশ বা তার অধিক পর্যটক আসেন। যাতায়াত সুবিধার উন্নয়ন ঘটলে পর্যটকদের উপস্থিতি আরও বাড়বে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার