স্বস্তির বৃষ্টিতে কাটলো অস্বস্তি

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৮:০২

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা। উত্তপ্ত আবহাওয়ায় অতিষ্ঠ শান্তিগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। হঠাৎ করেই আকাশে মেঘ জমে নেমেছে স্বস্তির বৃষ্টি। এতে উপজেলার আমন চাষীসহ জনসাধারণের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকদের কপাল থেকে মুছে গিয়েছে দুঃশ্চিন্তার রেখা। একজন তো আনন্দে আত্মহারা হয়ে বৃষ্টিতে ভিজে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেছেন। শুধু কৃষকই নন, বৃষ্টি হওয়ায় ভীষণ খুশি উপজেলার বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণ। গত সপ্তাহে প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন সর্বস্তরের মানুষ। অপেক্ষায় ছিলেন একফোঁটা বৃষ্টির। অবশেষে দেখা মিললো প্রতীক্ষার সেই বৃষ্টির। বৃষ্টিতে ভিজে ছোট্ট শিশুরা ফুটবল খেলে আনন্দ উপভোগ করেছে।
শান্তিগঞ্জ কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা, শিমুলবাক, জয়কলস, দরগাপাশা, পাথারিয়া ও পূর্ব পাগলাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় এ বছর ২ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২.৭৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন করার কথা রয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে জমি চাষ হয়েছে ২ হাজার ১৬৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাষ হওয়া মোট জমিতে ৬ হাজার ১৯ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার বর্তমান খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। এই বৃষ্টিতে কৃষি জমির খুবই উপকার হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কার্যালয়। তবে নিকট আগামীতে ধানী জমিতে কারেন্ট পোকা আক্রমণ করতে পারে। এজন্য কৃষি অফিস কর্তৃক সচেতনতার জন্য প্রচারণা চালানো হবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের আমন চাষী আবদুল হান্নান, ফয়জুর রহমান, দক্ষিণবন্দের কৃষক জ্যোতিস দেবনাথ ও ভমবমি বাজার এলাকার কৃষক আমির উদ্দিন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে জমি নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলাম। যে পরিমাণ রোদ ছিলো জমি পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যেতো। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় আমাদের জমির খুবই উপকার হবে। আমরা মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
পাগলা বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ও অর্পন দেবনাথ বলেন, গরমে ব্যবসায় মন্দাভাব যাচ্ছিলো। ক্রেতার সংখ্যাও কম ও বিদ্যুত বিভ্রাটও ছিলো। সব মিলিয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়েছিল। বৃষ্টি হওয়ায় আমাদের জন্যও বেশ উপকার হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আহসান হাবীব বলেন, আমাদের উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জমিতে কারেন্ট পোকা নামক একটি পোকা আক্রমণ করতে পারে। এই পোকা তাড়াতে ও কৃষকদের সচেতনতার লক্ষে আমরা একটি প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করবো, লিফলেট বিতরণ করবো। সবকিছু ঠিক থাকলে এবছর লক্ষমাত্রার চেয়ে উৎপাদন অনেক ভালো হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার