ভাঙন উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:৩৬

ঝুঁকিতে সুরমা নদীর ১১ স্পট

পানি কমার সাথে সাথেই জেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ভাঙনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক। জীবন ঝুঁকি নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী মানুষ। স্ত্রী-সন্তানদের রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামের পুরুষ সদস্যরা। জেলার ১১টি স্থানের ৮ কিলোমিটার জায়গা ভাঙন কবলিত হিসেবে চিহিৃত করলেও, ভাঙন রোধে কাজ নেই পাউবো’র।  
সীমান্ত শহর সুনামগঞ্জের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুরমা নদী। এর উত্তরপাড়ে সুরমা ইউনিয়নের সদরগড় গ্রাম। ভাঙনের খবরে সেখানে সরেজমিনে গেলে, কষ্টের কথা জানাতে ভিড় করলেন অনেকেই। সকলের চোখে-মুখে অসহায়ত্বের ছাপ। নদীর পানিতে ঢিল মেরে নদীগর্ভে বিলীন হওয়া নিজেদের বসতঘরের স্থান দেখাচ্ছিলেন যুবক মিজানুর রহমান। 


তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান নদীর কিনার থেকে অন্তত ৫০ মিটার গভীরে ছিল তাদের বসত ঘর। নদীগর্ভে বসতভিটা হারিয়ে মিজানের পরিবার চলে গেছে অন্যত্র। তার মতো আরও শতাধিক পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে বাপ-দাদা’র ঠিকানা ছেড়ে চলে গেছেন, কেউবা উদ্ভাস্তু হয়ে ঘুরছেন।  
গৃহবধূ রিতা কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, নদীর পাড় থেকে দুশো ফূট দূরে আমার ঘর ছিল। এক বছর আগে ঘর নদীতে বিলীন হয়। পরে পেছনে সরে খালি জায়গায় এসে ঘর বানাই। এক মাস হয় এই ঘরও নাই। বাচ্চা-কাচ্চা লইয়া যাওয়ার জায়গা নাই, এখন অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। 
এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও জীবন ঝুঁকি নিয়ে এখনো বসবাস করছে গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার। ঘুমের মধ্যে নদীর তলদেশে চলে যাওয়ার আতঙ্কে স্ত্রী-সন্তানদের রাতভর পাহারা দেন অনেক পুরুষরা। নদীগর্ভে চলে গেছে চার গ্রামের একমাত্র সড়কটিও। অব্যাহত নদী ভাঙনে দিশেহারা তারা।  


বয়োজ্যেষ্ঠ আনিস উল্লা বলেন, আমাদের পরিস্থিতি এখন খুব খারাপ। অনেকে চলে গেছে গ্রাম ছেড়ে। আমরা যে কজন আছি, তারাও আর থাকতে পারবো না। কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের ঘর ভেঙে যাবে। 
শাহ আবুরন বলেন, সুরমা নদীতে বালুর কোন অস্তিত্ব নাই। ঢলে কিছু বালু আসে। সেই বালু অবৈধভাবে তুলে আমাদের ঘরবাড়ির সাপোর্ট দুর্বল করে দিয়েছে তারা। তাই আমাদের ঘরবাড়ী গ্রাস করছে নদী। এখন যারা আছি আমরা গ্রামে তারা (পুরুষ) কেউ রাতে ঘুমাই না। রাত জেগে স্ত্রী-সন্তানদের পাহারা দেই। 


শাহ আবুরন’র মা- বলেন, আমরা খুব অসহায়ের মতো দিন পার করতেছি। আমাদের নাতি-নাতনি নিয়ে আতঙ্কে থাকি। কখন ঘর সহ নদীতে চলে যাই।
বছরের পর বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অফিসে গিয়ে কোন আশার বাণী না মেলার অভিযোগ জনপ্রতিনিধির। 
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আফসান পারভেজ বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমাদের গ্রাম ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে। যখনই ভাঙন ধরে মানুষ আমার কাছে যায়। আমি জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এমপিসহ সবার কাছে যাই। আমাদের কষ্টের কথা বলি। সবাই শুধু দেখছি, দেখবো- বলেই শেষ, কেউ কাজ করায় না।  এখনো যদি কাজ করা যায়, যে কয়টি বাড়ি ঘর আছে সেগুলো রক্ষা পেত। অনেকে গৃহহীন হওয়া থেকে বেঁচে যেত।


এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১১ টি স্থানে ৮ কি.মি নদীর পাড়ে একের পর এক বসতভিটা, স্থাপনা বিলীন হলেও এখনো দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয় নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। 
নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বললেন, বন্যার পর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নদী ভাঙন চিহ্নিত করে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোন জায়গায় কাজ শুরু হয়নি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে কাজ শুরু হবে। 


 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার