প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৭:৪৪
টাঙ্গুয়ার হাওর
দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট মাদার ফিসারি খ্যাত জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে চায়না দুয়ারি জাল সহ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছের বংশ ধ্বংস করছে অসাধু জেলেরা। এসব নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মা ও পোনা মাছ গিলে খাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এসব জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে হাওরের কুচিয়া, সাপ, কাঁকড়া, ব্যাঙ সহ নানা জলজ প্রাণী। এতে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। কোনাজাল, কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি জাল ও প্লাস্টিকের ছাই টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিটি বিলে ভরপুর।
তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলায় টাঙ্গুয়ার হাওর অবস্থিত। প্রায় ১২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হাওরটি। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি এই হাওর। ‘নয়কুড়ি কান্দার ছয় কুড়ি বিল’ নামে পরিচিত হাওরটি।
সরজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওরের অন্তর্গত তেকুইন্যা, বেরবেরিয়া, বালুয়ার ডোবা, রৌয়া, রূপাবুই, পালই সহ বিভিন্ন বিলে নিষিদ্ধ কোনা জাল, কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি জাল, প্লাস্টিকের ছাই দিয়ে অবাধে মা মাছ সহ পোনা মাছ ধরছে এক শ্রেণির জেলেরা। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে এসব জাল দিয়ে মাছ শিকার।
স্থানীয়রা জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরটি মাছ ও পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত। তবে বাস্তবে হাওরে এখন আর আগের মতো কিছু নাই। হাওরের মাছ, পাখি, গাছ ও জলজ উদ্ভিদসহ সব কিছুই গিলে খেয়েছে দুর্বৃত্তরা। নতুন করে চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মা মাছ থেকে শুরু করে সকল প্রকার জলজ প্রাণি ধরে ধ্বংস করে দিচ্ছে হাওরপাড়ের জেলেরা। এখন ৮০ ভাগ জেলেই কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরে বিক্রয় করে। একসময় জেলেরা বাঁশের চাই দিয়ে মাছ ধরলেও এখন আর চাইয়ে মাছ ধরা পড়ে না। একারণে বিভিন্ন ধরনের কারেন্ট জাল দিয়ে ছোট বড় সকল মাছ শিকার করছে জেলেরা।

হাবিবুর রহমান নামে একজন বলেন, কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ ধরার কারণে হাওরে এখন আর আগের মতো মাছ নেই। যা কিছু ধরা পড়ে জেলেরা জেলা শহর সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেয়। এদিকে হাওরপাড়ের অধিকাংশ মানুষ এখন পুকুরের পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া মাছ বাজার থেকে এনে খাচ্ছে। তিনি বলেন, চায়না দুয়ারি জালে পোনা মাছ থেকে শুরু করে যে কোন মাছ আটকা পড়ে। হাওরে বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় অধিকাংশ জেলেই কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরে সংসার চালাচ্ছেন।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী হায়দার বললেন, হাওরপাড়ের অধিকাংশ মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ছয় মাস তাদের কোন পেশা থাকে না। হাওরে মাছ কমতে কমতে এমন অবস্থা হয়েছে যে, এখন আর জালে তেমন মাছ ধরা পড়ে না। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কয়দিন পর পর জাল পুড়ানো হয়, এরপরও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা থামানো যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, শুধু মোবাইল কোর্ট করে কারেন্ট জাল হাওর থেকে সরানো যাবে না। যেদিক থেকে জাল আসে সেখানেও বন্ধ করতে হবে। এছাড়া প্রজনন মৌসুমে হাওরে মাছ ধরা বন্ধ করে জেলেদের প্রণোদনা দিতে হবে। না হয় এক সময় টাঙ্গুয়া সহ বিভিন্ন হাওর থেকে মাছ বিলীন হয়ে যাবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদে বৃহস্পতিবার সকালে নতুন অফিসার যোগদান করেছেন। এই স্টেশনে কয়দিন অফিসার ছিলেন না। টাঙ্গুয়ার হাওরে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে নিশ্চয়ই উদ্যোগ নিবেন তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন