প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৬:৪৮
নোয়াখালী-ভীমখালী সড়ক। ভোগান্তিতে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।
শান্তিগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ত্রিশটি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ হচ্ছে নোয়াখালী-ভীমখালী সড়ক। উপজেলাগুলোর প্রায় ত্রিশটি গ্রামের সাধারণ মানুষের দুঃখের নাম এখন ১০ কিলোমিটারের এই সড়কপথ। সড়কটি ভাঙতে ভাঙতে এখন অভিশাপ কিংবা দুঃখ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সড়কটির একাধিক স্থানে এমনভাবে ভেঙেছে যে দেখলেই মনে হয় সড়কটিতে যেনো মৃত্যুর ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে। এসব ভাঙনে ইতোমধ্যে একাধিকবার ছোট বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। সড়কটির বেশ কিছু স্থান ভালো থাকলেও ভাঙন অংশের কারণে ভালোর কৃতিত্ব যেনো নিমিষেই মলিন হয়ে যায়। রোগী, বয়োবৃদ্ধ, শিক্ষার্থীসহ সব ধরনের যাত্রীদের জন্য এই সড়কটি এখন ভোগান্তির অন্যতম কারণ। রাস্তাটিতে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের আতঙ্কের নামও নোয়াখালী-ভীমখালী সড়ক। বড় বড় ভাঙা থাকায় কম দূরত্বের সড়কে যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নোয়াখালী-ভীমখালী সড়কেরপ্রবেশ মুখেই বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙা। প্রবেশ মুখেই এই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি, মোটরসাইকেল পার্ক করে রাখা হয়। সড়ক ভাঙা ও ছোট হওয়ার কারণে প্রবেশ মুখে সব সময়ই যানজট থাকে। সামনের কিছু জায়গা ভালো থাকলেও তেরহাল গ্রামের ব্রিজের দুই পাশ চরমভাবে ভাঙা। ব্রিজে উঠা-নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জিবদারা বাজার পর্যন্ত যাওয়ার আগে আরও দুই-এক জায়গায় ছোট ছোট ভাঙনের দৃশ্য চোখে পড়ে। জিবদারাপার হয়ে মুর্তাখাই পয়েন্ট, উকারগাঁও ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে, মুর্তাখাই ব্রিজ ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ৩টি বড় বড় ভাঙন রয়েছে। এছাড়াও এই সড়কের আরও বেশ কিছু জায়গায় ছোট ছোট ভাঙন রয়েছে। যা অতিদ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হবে।
স্থানীয়রা জানান, তিন উপজেলার তেরহাল, নূরপুর, জিবদারা, কেশবপুর, হরিপুর, উকারগাঁও, মুর্তাখাই, চাঁনপুর, ঢালাগাঁও, ক্ষিধিরপুর, রামেশ্বরপুর, কাঁঠইল্যা, হাসনাবাজ, ভীমখালী, খামলাবাজ, বিচনা নয়াগাঁও, কলক্তা, মিলিকপুর, থলেরবন্দ, আক্তাপাড়া, ভান্ডা, মাখরখলা, গাজীপুর, কুতুবপুর, মির্জাপুর, লালুখালী, মুরাদপুরসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের চলাচল এই সড়ক দিয়ে। বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে এই সড়ক পথে। কোনো গর্ভবতী মহিলাকে বা মুমূর্ষু রোগীকে এই সড়ক দিয়ে বহন করার কোনো উপায় নেই। একবার বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে একজন গর্ভবতী মহিলা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। এই সড়কে গাড়ি চালান প্রায় ২শ’ সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালক। তাদেরও চরম ভোগান্তি হয় এই পথে।
জিবদারা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমন আহমদ বলেন, এই পথে চলাচল করতে আমাদের খুবই অসুবিধা হয়। সড়কটি বন্যার পানিতে ভেঙে গিয়েছিলো। সরকার আর ঠিক করেননি। ভাঙা অংশ ঠিক করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
উকারগাঁও গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি আসকুন নূর বলেন, সড়কটির বেশ কিছু অংশ এমনভাবে ভেঙেছে যে চলাচলের কোনো উপায় নেই।
পরিবহনশ্রমিক আতিকুর রহমান, স্বাধীন মিয়া ও পাবেল আহমদ বলেন, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও টমটমসহ এই সড়কে প্রায় ২শ’জন শ্রমিক গাড়ি চালান। তাদের পরিবারের রুটি-রুজি হয় সড়কে যাত্রী বহন করে। সড়কপ্রচ-ভাবে ভাঙা থাকার কারণে সপ্তাহান্তে গাড়িতে কাজ করাতে হয়। ভাঙা অংশে যাত্রী নামাতে হয়। বাধ্য হয়ে দশ কিলোমিটার পথে আমাদেরকে ভাড়া বেশি নিতে হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার জোর দাবি করছি।
সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ। সড়ক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন