প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৪ ০০:০৩
সুনামগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত উপজেলা মধ্যনগর। এ উপজেলায় রয়েছে ৪টি হাট-বাজার। এগুলোর মধ্যে ১৪৩১ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছর মেয়াদে ২টি হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে। আর বাকি ৪টি হাট-বাজার ইজারাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ইজারা দেওয়া ২টি বাজারের মধ্যে একটিতেও টোল (খাজনা) আদায়ের কোনো তালিকা টানানো নেই। সরকারি নির্দেশনা না মেনে হাট-বাজারগুলোতে ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজন তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো টোল আদায় করে আসছেন। ফলে বিপাকে পড়েছেন বাজারে বিভিন্ন ধরনের মালামাল কিনতে আসা ক্রেতারা। অতিরিক্ত টোল আদায় করার কারণে তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহেষখলা বাজার ৮১ লাখ ২৬ হাজার ২৫০ টাকায়, ভোলাগঞ্জ বাজার ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫৬ টাকায় ইজাদারদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। মধ্যনগর বাজার ও বংশীকু-া বাজার দুইটি খাস কালেকশনে সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে ইজারা দেওয়া হয়। এ দুইটি বাজার ইজারায় ডাকে কেউ অংশ না নেওয়ায় ইজারাবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ইজারাকৃত হাট-বাজারে আসা ক্রেতাদের কাছ থেকে ইজারাদাররা বাজারে ক্রয়কৃত মালামালের ওপর শতকরা সোয়া ৬ টাকা হারে টোল আদায় করার কথা রয়েছে। কিন্ত ইজারা হওয়া উপজেলার সবকটি হাট-বাজারে ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজন শতকরা ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা করে টোল আদায় করে আসছেন। বাজারগুলোর জনবহুল স্থানে প্রকাশ্যে টোল আদায়ের তালিকা ইজারাদাররা টানানোর কথা থাকলেও একটি বাজারেও টোল আদায়ের তালিকা টানানো হয়নি।
সরেজমিনে গত সোমবার বংশীকু-া উত্তর ইউনিয়নের ভোলাগঞ্জ বাজার ও মঙ্গলবার একই ইউনিয়নের মহেষখলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকারিভাবে ইজারা হওয়া দুইটি বাজারে টোল আদায়ের কোনো তালিকা টানানো হয়নি। ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজন তাদের ইচ্ছামতো ক্রেতাদের কাছ থেকে টোল আদায় করছেন।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ডালিম মিয়া বলেন, মহিষখলা বাজার ও ভোলাগঞ্জ বাজারে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। সীমান্তে ভারতীয় গরু চোরাকারবারের স্বার্থে দুইটি বাজার একটি সি-িকেটের মাধ্যমে ইজারা এনে মহিষখলা বাজারের হাসিল রশিদের মাধ্যমে এসব ভারতীয় গরুর বৈধতা দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, মহিষখলা ও ভোলাগঞ্জ বাজারে টোল আদায়ের তালিকা টানানো হয়নি। এতে মানুষ হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টিতে উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলার মহিষখলা বাজারের ইজারাদার রুবেল মিয়া স্থানীয় একটি মামলার আসামী হওয়ায় আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার পক্ষে বাজারের খাজনা আদায়কারীকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
দাতিয়াপাড়া গ্রামের সজীব আহমেদ বলেন, মহিষখলা বাজারে টোল আদায়ের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। বাজারে টোল আদায়ের কোনো তালিকা টানানো হয়নি।
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মহিষখলা বাজার ও ভোলাগঞ্জ বাজার ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নুরনবী তালুকদারকে মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা যায়নি। তবে বাজার ব্যাবস্থাপনা কমিটির সদস্য সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হেলাল মিয়া জানান, মহিষখলা বাজারে টোল আদায়ের তালিকা টানানো হয়নি। তবে আমরা ইজারদারকে বলবো দ্রুত তালিকা টানানোর জন্য।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দেখব। এছাড়া খুব শিগগিরই ইজারাকৃত হাট-বাজারগুলোর টোল আদায়ের তালিকা টানিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন