সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের জামিন 

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৪ ১৫:৩৭

এমএ মান্নানের পক্ষের আইনজীবীরা। ছবি. সুখবর

বিশ হাজার টাকা মুচলেকায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের জামিন মঞ্জুর করেছেন সুনামগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন। বুধবার বিকাল ৩টায় জামিন শুনানির পর অসুস্থ বিবেচনায় তিনি এই আদেশ দেন বলে আসামীপক্ষের আইনজীবী গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন। তবে শুনানিতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন নি। এর আগে সকালে জামিন শুনানির সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা শুনানি বর্জন করে চলে যান।
এমএ মান্নানের পক্ষে আইনজীবী অ্যাড. আব্দুল হামিদ বললেন, সুনামগঞ্জের ঘটনায় শান্তিগঞ্জের নিজের বাড়িতে অবস্থান করেও আসামী হয়েছেন এমএ মান্নান। তিনি ৮০ বছর বয়স্ক অসুস্থ মানুষ। এই মামলায় ২১ দিন ধরে জেল হাজতে রয়েছেন। তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ, চলাফেরাতে করতে অক্ষম। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন। মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত। বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় মাননীয় আদালত বিশ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। ভবিষ্যতে আশাকরি ন্যায় বিচার পাব।
এর আগে বেলা ১১টায় এমএ মান্নানের জামিন শুনানিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের হট্টগোলে এজলাস ছাড়েন বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন। বিচারক এজলাসে উঠার পরেই দুইপক্ষের হট্টগোল শুরু হয়। এমন ঘটনায় এজলাস ছাড়েন বিচারক। পরে দুপুর আড়াইটায় শুনানির সময় নির্ধারণ হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. শেরেনুর আলী বলেন, বিচারক এজলাসে আসার পরে দু’পক্ষে হট্টগোল হয়েছে। আমরা বলেছি, এই মামলা এই আদালতে অস্বাভাবিকভাবে আনা হয়েছে। এই বিষয়ে আমরা বাদীপক্ষ জানি না। এ নিয়ে আজকে শুনানি করতে চাই না। অন্যান্য মামলার মতো এই মামলার শুনানির তারিখ পরবর্তীতে দেয়ার জন্য আদালতকে বলেছি আমরা। কিন্তু আদালত আমাদের কথা শুনতে চান নি। আসামীপক্ষ শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য তোড়জোড় করেছে। এ নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। পরে ‘আদালত’ এজলাস থেকে নেমে গেছেন। 
বিকাল তিনটায় এমএ মান্নানের জামিন মঞ্জুরের পর অ্যাড. শেরেনুর আলী বলেন, জামিন দেওয়া না দেওয়া আদালতের এখতিয়ার। যে প্রক্রিয়ায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে জামিনের শুনানির তারিখ ধায্যর্ করা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। শুনানিতে অংশগ্রহণ না করে অর্থাৎ শুনানি বর্জন করে এর প্রতিবাদ করেছি আমরা।
শুনানিতে পিপি এপিপিদের ভূমিকা কী ছিলো? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পিপি এপিপিরা রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে থাকার কথা। তারা আসামী পক্ষে থেকেছেন। নিম্ন আদালতেও এই বিষয় নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আজকেও করেছি। এই পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জে বিচার কার্যক্রম আগামীতে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।
বাদীপক্ষের অপর আইনজীবী অ্যাড. আব্দুল হক বললেন, মঙ্গলবার বিকেলে এমএ মান্নানের পক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার এর নিকট মিসকেস দাখিল করা হয়। আজ সকালে কোর্টে এসে শুনি এই মামলার জামিন শুনানি হবে। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। বিচারপ্রার্থী সকল মানুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান। এখানে সেটি লঙ্ঘিত হয়েছে। এজন্য আমরা প্রতিবাদ করেছি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. মাসুক আলম বললেন, কাল বিকালে মিসকেস হয়েছে। আজ জামিন শুনানী। ঘটনাপ্রবাহ আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয় নি। এছাড়া মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কোন আইনজীবী বাদীর পক্ষে ছিলেন না। তারা আওয়ামী লীগের সরকারের সুবিধাভোগী। এজন্য তারা তাদের নেতার পক্ষে দাঁড়ায়নি। সবকিছু দেখে শুনানিতে আমরা অংশ নেই নি।
সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হওয়ায় গেল শনিবার সুনামগঞ্জ কারাগার থেকে আদালতের নির্দেশে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরে তাকে সিলেটের বাদাঘাট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তাঁকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ওখানে তার চিকিৎসার জন্য ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
এম এ মান্নানকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার