চলতি নদীতে বড় নৌকার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা প্রশংসনীয়

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৪ ০৫:৫২

চলতি নদীতে বালু—পাথরবাহী বড় জলযান প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন নির্দেশ জারি করেছেন। এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরে ইজারাবিহীন চলতি নদীতে বড় নৌকা প্রবেশ বন্ধসহ অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার, বোমামেশিন ইত্যকার খননযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন মহল ও এলাকাবাসী দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বোমা বা ড্রেজার মেশিন নির্দেশ জারি করে বন্ধ করার কিছু নেই। এই খননযন্ত্রের ব্যবহার আইনতই নিষিদ্ধ। দরকার হলো এসব খননযন্ত্র যাতে বালু—পাথর লুণ্ঠনে ব্যবহৃত না হয় সেটি নিশ্চিত করা। যেহেতু চলতি নদীতে বড় জলযানের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার মতো একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসেছে সেহেতু আমরা আশা করতে পারি পরিবেশ ধ্বংসকারী এইসব খননযন্ত্র বন্ধ করতেও প্রশাসন শক্ত ভূমিকা অবলম্বন করবেন। খননযন্ত্রের মাধ্যমে নদীর পাড় কেটে বালু আহরণ করার ফলে চলতি নদীর দুই পাড়ের বিভিন্ন গ্রাম ধ্বংসের মুখোমুখী। ইতোমধ্যে বহু বাড়ি—ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ইত্যাদি ভাঙন কবলিত হয়েছে বলে জানা যায়। এই অশুভ প্রবণতা রোধ করতে না পারলে চলতি নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে রক্ষা করা কঠিন হবে। 
চলতি নদীর মতো জাদুকাটা নদীর সীমান্তবর্তী অংশেও বড় জলযানের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। জাদুকাটা নদীতে বালু আহরণের জন্য ইজারা দেয়া রয়েছে কিন্তু ইজারাদাররা কখনও নিয়ম মেনে বালু আহরণ করেন না। তাঁরা বরাবরের মতোই নিষিদ্ধ খননযন্ত্র ব্যবহার ও নদীর পাড় কেটে জাদুকাটা নদী অঞ্চলকেও বিলুপ্তির সম্মুখীন করে ফেলেছেন। প্রাকৃতিক নিয়মে উজান থেকে নেমে আসা বালু ও পাথর এই জেলার মূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদকে কেন্দ্র করে আবহমান কাল থেকে কয়েক হাজার বারকি শ্রমিক জীবীকার ব্যবস্থা করতে পারছিলেন। কিন্তু যখনই এই সম্পদের দিকে প্রভাবশালী মহলের নজর পড়ল তখন থেকেই এই শ্রমজীবী পরিবারগুলো নিজেদের বংশপরম্পরার পেশা থেকে উচ্ছেদ হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়তে শুরু করলেন। অন্যদিকে ইজারাদার ও প্রভাবশালীরা বালু আহরণের নামে মূলত হাঁসের পেট কেটে সমস্ত ডিম একসাথে বের করে আনার নামে জীবন্ত হাঁসটিকেই মেরে ফেলার আয়োজনে মত্ত হয়ে গেলেন বলে আমরা দেখতে পাই। জেলার অনন্য এই প্রাকৃতিক সম্পদকে কিছু মানুষের অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে পরিণত করে রাখা একেবারেই অনুচিত। তাই জেলা প্রশাসন জাদুকাটা নদীর দিকেও নজর দিবেন বলে আমরা আশা করি। 
 যেকোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া সহজ কিন্তু তা প্রতিপালিত হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন কাজ বটে। এজন্য দরকার পড়ে নিয়মিত তদারকি ও আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। আফসোসের বিষয় হলো জেলার বালু ও পাথর মহালগুলোতে যথেচ্ছভাবে আইন লংঘিত হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নজির একেবারেই যৎসামান্য। ব্যবস্থা গ্রহণের নামে যেসব কার্যক্রম আমরা দেখে থাকি তাতে বেপরোয়া বালু—পাথর লুটেরাদের বুকে ভয়ের কাঁপন ধরাতে ব্যর্থ হয়। আসল কথা হলো যারা আইন ভাঙে তাঁদের মনে ভীতির সঞ্চার করতে হবে। তাঁরা যাতে মনে করে আইন ভঙ্গ করলেই কঠোর ব্যবস্থার সামনে দাঁড়াতে হবে। নতুবা লোক দেখানো অভিযান বা নিষেধাজ্ঞায় কোনো কাজ হবে না। কারণ কথায় আছে চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী। প্রশাসনের সাথে সমঝোতা করে যাতে কেউ বেআইনি কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও গণবান্ধব করার কথা ইদানিং বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। প্রশাসন সঠিক ভূমিকা রাখলে বালু ও পাথর মহালগুলো থেকে বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়া সম্ভব বলেই আমরা মনে করি।  

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার