বিশ্বম্ভরপুরের লোকমানপুরে দ্রুত নলকূপ স্থাপন করা হোক

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪২

মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি অর্জনের বড়াই করার এই সময়ে পুরো একটি গ্রামে সুপেয় পানির সংকটে থাকার খবরটি নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার লোকমানপুর গ্রামে সুপেয় পানির জন্য একটিও টিউবওয়েল কিংবা সাব—মার্জিবল টিউবওয়েল নেই। এই গ্রামে ৩০টি পরিবারের ২ শতাধিক মানুষের বসবাস। গ্রামটি চতুর্দিকে হাওরবেষ্টিত। বর্ষায় নৌকায় চড়ে এবং হেমন্তে পায়ে হেঁটে পাশ^র্বর্তী বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে তাঁরা পান করার জন্য টিউবওয়েলের বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করেন। ভরা বর্ষায় আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে  যখন হাওর উন্মত্ত থাকে তখন লোকমানপুরের বাসিন্দারা নৌকায় করেও পানি সংগ্রহ করতে পারেন না। এ সময় তাঁদের হাওর কিংবা পুকুরের অনিরাপদ পানিই পান করতে হয়। বাহাদুর্পুর গ্রামের সুপেয় পানির এই সংকট গত ১৫/২০ বছর ধরে চলমান। এই সময়ের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নলকূপ স্থাপনের বহু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। লোকমানপুর গ্রামবাসী কর্তৃপক্ষের নিকট বহুবার লিখিত আবেদন নিবেদন করেছেন একটি নলকূপ বসানোর জন্য। কিন্তু তাঁদের ভাগ্যে জোটেনি একটিও টিউবওয়েল। এ বড় দুর্ভাগ্যের, এ বড় বৈষম্যের। লোকমানপুর গ্রামে দরিদ্র জেলে ও কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। দরিদ্র মানুষের আহাজারি ও ন্যায়সঙ্গত দাবির কথা কখনও উচ্চপর্যায়ে তেমন আলোড়ন তৈরি করে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপেক্ষা করে গেছেন গোটা একটি গ্রামের এই পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের বিষয়টি। প্রশ্ন জাগে, লোকমানপুর গ্রামের বাসিন্দারা কি ভোট দিয়ে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেননি ? নতুবা কেন পুরো একটি গ্রামকে এরকম বঞ্চনার শিকার হয়ে থাকতে হচ্ছে দুই দশক ধরে ? এই জনপ্রতিনিধিরা কি লোকমানপুরের এই সংকট দেখেননি ? তাঁরা ওই গ্রামের ভোটারদের প্রতি কোন্ দায়িত্ব পালন করলেন ?  সরকারিভাবে দেশের বহু উপজেলায় শতভাগ স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় প্রচুর বিশুদ্ধ পানির নলকূপ বসানো হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমেও বহু জায়গায় সাবমার্জিবল পাম্প বসিয়ে দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তো বছরব্যাপীই এই বরাদ্দ থাকে। তবুও দুর্ভাগা লোকমানপুর গ্রামবাসীর কপালে একটি সাবমার্জিবল পাম্পের বরাদ্দ জোটেনি। এই বৈষম্যের অবসান হওয়া উচিৎ। এটি আমাদের দেশের উন্নয়ন বৈষম্যের জলজ¦্যন্ত একটি নমুনা মাত্র। বিশেষ করে প্রান্তিক ও ক্ষমতাহীন মানুষের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক উপেক্ষারও কুৎসিৎ  প্রমাণ এটি। 

 


উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিশ^ম্ভরপুর সুনামগঞ্জের খবরকে বলেছেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে উপজেলা ওয়াটশন কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে এই গ্রামে টিউবওয়েল বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। এই বক্তব্য গতানুগতিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পরিপূর্ণ। একটি সাবমার্জিবল টিউবওয়েল বসানো খুব বেশি খরচের ব্যাপার নয়। এজন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিশেষ বরাদ্দ না থাকলেও উপজেলা পরিষদ নিজস্ব তহবিল থেকে দ্রুতই একটি টিউবওয়েল স্থাপন করে দিতে পারে। দরকার প্রিান্তক মানুষের প্রতি একটু সহনাভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি, তাহলে প্রক্রিয়াগত জটিলতা সমস্যার সমাধানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। এখন পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নির্ধারণের পরিবর্তে বরং উপজেলা প্রশাসনকে এই জবাবদিহি করা উচিৎ হাওর মধ্যস্ত অনুন্নত ও দরিদ্র মানুষের একটি গ্রাম কেন এত দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় ও নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত থাকলো। আমরা জানি প্রচলিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এই ধরনের জবাবদিহিতায় অভ্যস্ত নয়। তবে উন্নয়ন বৈষম্যের এই চিত্র থেকে ভবিষ্যতের জন্য সকলের শিক্ষা গ্রহণ করা একান্ত আবশ্যক। 

 


নিরাপদ পানি পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সরকার এজন্য আন্তর্জাতিকভাবেও  প্রতিশ্রম্নতিবদ্ধ, দেশের বেশিরভাগ জায়গায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থাও করা গেছে। কিন্তু এখনও যে কিছু জনপদ বঞ্চিত লোকমানপুর গ্রামটি যেন সেটিই বুঝিয়ে দিচ্ছে।  আমরা জানি অনিরাপদ পানি পান করার ফলে বহু ধরনের রোগ ছড়ায়। জনস্বাস্থ্যের জন্য তাই নিরাপদ পানির সংস্থান অতীব জরুরি। সুতরাং বিশ^ম্ভরপুরের লোকমানপুর গ্রামে অতিদ্রুত সাবমার্জিবল পাম্প বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য আমরা বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা প্ররিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই। এই উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় এরকম নিরাপদ পানির সুযোগবঞ্চিত আর কোনো গ্রাম আছে কি—না তা অনুসন্ধান করে সর্বত্র পর্যাপ্ত টিউবওয়েল বসানোর জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার