প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৫৯
এমনিতেই কয়েক বছর ধরে সড়কের কোনো সংস্কার কাজ হয় না। ফলে সড়কটি অনেক আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠে। দুই বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় সেই সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে তুলে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোটবড় গর্ত। উঠে গেছে পিচ ঢালাই। এতে করে যানবাহন চলাচলের সময় যাত্রীদের অবস্থা হয় শোচনীয়। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে জমে থাকে পানি। সেই পানি ছিটকে পড়ে সড়কের উভয়পাশে থাকা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কের পূর্ব বাজারাস্থ বাহুটিয়াকান্দা ত্রিমুখী মোড় থেকে কান্দাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার ভাঙা সড়কের কারনে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারও মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চলতি বছর এলজিইডির অধীনে ধর্মপাশা-জয়শ্রী শয়তানখালী সেতুর পূর্ব পাশ থেকে বাহুটিয়াকান্দা মোড় পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাহুটিয়াকান্দা ত্রিমুখী মোড় থেকে উপজেলা মোড় থেকে কান্দাপাড়া পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কার করা হয়না। ফলে এ সড়ক দিয়ে সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষজনসহ জয়শ্রী, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে উপজেলা সদরে যোগাযোগ করেন। বিশেষ করে সুনামগঞ্জগামী লঞ্চ, ট্রলার বা স্পিডবোট যাত্রীরা এ সড়ক দিয়েই মহদীপুর ঘাটে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এবং ২০২২ সালের কয়েক দফা বন্যায় সড়কে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাহুটিয়াকান্দা মোড়ে পানি জমে সড়কটি সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। বুধবার সকালে ওই মোড়ে দেখা যায়, সড়ক থেকে পানি সরানোর জন্য বালতি দিয়ে পানি সেচ দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তবুও গর্তের পানি যেন শেষ হচ্ছে না। বুধবার বিকেলে স্থানীয় অটো শ্রমিক সমিতির পক্ষ থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সুড়কি ফেলে যান চলাচলের উপযোগি করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় শিক্ষার্থী ফারুক আহমেদ বলেন, সড়কের বেহাল দশার কারনে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের কারনে যানজট লেগেই থাকে। স্থানীয়রা সেচ দিয়ে গর্ত থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করে পথচারিদের চলাচলের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বৃষ্টি হলে আবারও সেই আগের দুর্ভোগ নেমে আসে। সংস্কার ছাড়া এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি ফেসবুকে পোস্টও করেছি।
মেউহারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উসমান গণি বলেন, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। এ সড়কে যানবাহনে চলা যেমন তেমন হেঁটে চলাও দায়।
তবে আশার কথা শোনালেন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ইমারজেন্সি মেইন্টেনেন্স প্রকল্পের অধীনে সড়কটি সংস্কারের জন্য বুধবার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। আশা করা যায় দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন