প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:৫৫
গরুর খামার
দশ বছর আগে ছিলেন বেকার। সংসার চালাতে হিমশিম খেয়েছেন। একটি গরু দিয়ে খামার শুরু করে আলী হোসেন (৪০) এখন ১০টি গাভীর মালিক। অথচ ১০ বছর আগেও নিজের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি ছিলেন হতাশাগ্রস্ত। সেই আলী হোসেন এখন প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকার দুধ বিক্রি করেন। সফল যুবক আলী হোসেন জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের উত্তর কামলাবাজ গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, একটি ফ্রিজিয়ান গরু দিয়ে আলী হোসেন শুরু করেন গরুর খামার। এখন তার খামারে আছে ফ্রিজিয়ান জাতের ১০টি গাভী।
আলী হোসেন বলেন, দশ বছর আগে গ্রাম থেকে মোরগ কিনে সাচনা বাজারে বিক্রি করতাম। যে পরিমাণ লাভ হতো তা দিয়ে সংসার কোন রকমে চলতো। এক বন্ধুর পরামর্শে মোরগ বিক্রি করে ১টি ফ্রিজিয়ান গরু ক্রয় করি। তারপর ১ বছর পর একটি গাভীর বাচ্চা জন্ম দেয়। এভাবে পরের বছর আরও ২টি বাচ্চা জন্ম দেয়, এমনি করে প্রতি বছর গাভী থেকে জন্ম নেওয়া গাভীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টি। এর মধ্যে ৩টি গাভী প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ লিটার দুধ দেয়।
তিনি আরও জানান, প্রতি মাসে খামার থেকে খরচ বাদে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। এটা আমার নিজের বাড়িতে তৈরি করা খামার। এজন্য খামারের জায়গা জমির জন্য আলাদা কোন খরচ নাই। সব মিলিয়ে আল্লাহর রহমত আর নিজের চেষ্টায় একটা ভালো পর্যায়ে আছি। খুব আনন্দ পাই যখন গ্রামের লোকেরা আমার উদাহরণ দিয়ে তাদের পরিবারের লোকজনকে বলে আমার মতো পরিশ্রম করে সফলতায় চেষ্টা কর।
আলী হোসেন আরও জানান, আশা করি কয়েক মাসের মধ্যেই আরও ৩টি বাচ্চা আসতে পারে।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হানিফ মিয়া জানায়, আলী হোসেন ১টি গাভী দিয়ে আজকে ১০টি গাভীর মালিক। প্রতিদিন সকালে তার গাভী থেকে গোয়ালেরা দুধ নিয়ে যায়। তার মত অন্যান্য যুবকেরাও গাভী পালন করে সফলতা পেতে পারে। এতে যুবকদের বেকারত্ব অনেকটা কমে যাবে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবুল কাসেম বলেন, আলী হোসেন কখনো চিকিৎসা সহায়তায় জন্য আমার কাছে আসেনি। তবে পেশাজীবী খামারিদের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তার খামার পরিদর্শন করে উন্নত ব্যবস্থাপনায় ও গাভীগুলোর দুধ উৎপাদন বাড়াতে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন