পর্যটকে মুখরিত তাহিরপুর/ লোকসান কাটার আশা 

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:০৭

সুনামগঞ্জে তিন দফা বন্যা ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে লোকসানে পড়েছিল পর্যটন ব্যবসা। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকটি পর্যটন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিখ্যাত জলরাশির হাওর টাঙ্গুয়াসহ তাহিরপুর সীমান্তের পর্যটন স্পটগুলোতে ভিড় বেড়েছে। এতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠার সাহস পেয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
প্রাকৃতিক দুযোর্গ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গেল ২ মাস পর্যটক আসে নি হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে। এ কারণে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলছেন হাউসবোটের মালিকরা। তবে এখন পর্যটকের উপচে পড়া চাপে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাউজবোট সংশ্লিষ্টরা। এতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠার ভরসা পেয়েছেন তারা। 
গেল ৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৩ দিন বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এই তিন পার্বত্য জেলায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে প্রশাসন। এতে ভ্রমণ প্রিয় মানুষদের নজর হাওরের এলাকা সুনামগঞ্জের দিকে। গত কয়েকদিন ধরে হাউসবোটগুলো অগ্রিম বুকড হয়ে গেছে। শিডিউল মেনে ট্যুর পরিচালনা করতে হচ্ছে তাদের। 
সম্প্রতি সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ সিরাজ লেক (নিলান্দ্রী), শিমুল বাগান, রূপের নদী জাদুকাটা, সবুজ পাহাড়ের ডাকে লোকে লোকারণ্য পর্যটনকেন্দ্রগুলো। হাওর কন্যার এমন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে  মুগ্ধ হচ্ছেন দূর দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। 
রাজশাহী থেকে প্রথম বারের মতো তাহিরপুরের পর্যটন এলাকায় ঘুরতে এসেছেন ব্যাংকার আজিজ সরকার। তাদের দলে মোট ৩৬ জন পর্যটক রয়েছেন। এরমধ্যে ২৫ জন উত্তরা ব্যাংক ও ৯ জন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে কাজ করেন। বাকী ২ জন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপকও রয়েছেন। 
আজিজ বললেন, টাঙ্গুয়ার হাওর আমাদের দারুণভাবে পুলকিত করেছে। আমরা মহা আনন্দিত। এতো বড় হাওর এরআগে আমরা দেখিনি। হাওরের বৈচিত্র্য, বিশেষ করে এর পাড়ে পাড়ে কিছু বসতি রয়েছে। তারা কিভাবে ঠিকে রয়েছে, জীবনযাপন করছে, এটি আমাদের মনে দাগ কেটেছে। নিলাদ্রী লেকের (শহীদ সিরাজ লেক) পাড় দিয়ে আমরা হেটেছি। অনেক সুন্দর একটি লেক। আমরা ছাড়াও আরও শতশত পর্যটক এসেছেন।   
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মাহবুবা রহমান সাথী বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে অনেকদিন ধরে পরিকল্পনা ছিলো আসার। এখন আবহাওয়াও ভালো তাই চলে এলাম। পরিবারের সবাই মিলে ১২ জনের একটি গ্রুপ এলাম। সিলেট সব সময়ই সুন্দর। হাওর আরও বেশি সুন্দর। সকাল থেকে হাউসবোটে ঘুরেছি। খুব ভালো লাগছে।  
নয়নাভিরাম প্রকৃতিতে প্রশান্তি মিললেও সড়ক যোগাযোগে রয়েছে ভোগান্তি। সুনামগঞ্জে থেকে তাহিরপুর যেতে একাধিক জায়গায় ভাঙাচুরা সড়ক রয়েছে। কোথাও সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এই সড়কের শক্তিয়ারখলা এলাকায় সংস্কার কাজের জন্য প্রায়ই যানবাহনের ধীরগতি দেখা যায়। ট্যাকেরঘাট থেকে সড়ক পথে চানপুর সাদা পাথর ছড়া, লাকমা ছড়া, বড়গোপ টিলা, শিমুলবাগানের যাতায়াতের সড়কের বেহাল অবস্থা। এসব সড়ক যোগাযোগের উন্নতি চান পর্যটকেরা। এছাড়াও ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ রয়েছে পর্যটকেদের। সাইনবোর্ডে থাকা পুলিশের নম্বর বন্ধ থাকে বলছেন তারা।
ফেনী থেকে আসা পর্যটক মঞ্জুরুল ইসলাম সৌমিক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলায় আমরা পর্যটকেরা যেতে পারছি না। কক্সবাজার ও সিলেটের পর্যটন এলাকাগুলো চালু রয়েছে। গতকাল এসেছি। এসে রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখেছি। সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর আসার সড়কের বেহাল অবস্থা। নিলাদ্রী (শহীদ সিরাজ লেক) খেকে অন্যান্য স্পটে যেতেও ভোগান্তি রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা অনেক কষ্ট করে আসতে হয়েছে। এগুলো পর্যটন এলাকা বিকাশে বাঁধা হয়ে দাড়ায়। যারা এই ভোগান্তি শিকার করে একবার আসবেন দ্বিতীয়বার এখানে আসার উৎসাহ থাকবে না। তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 
তিনি বলেন, সারাদিন ঘুরলেও কোথাও ট্যুরিস্ট পুলিশ দেখি নি। এটি আমাদের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাইনবোর্ডে দেওয়া ফোন নম্বরও বন্ধ। 
হৈমন্তি হাউজ বোট সিইও আরিয়ান ইমন বলেন, গত ২ মাসে আমাদের প্রায় ৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে পার্বত্য এলাকায় তিনটি জেলায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় হাওরের দিকে পর্যটকেরা আসছেন। আমাদের প্রত্যেকটি বুট বুকিং শেষ হয়ে গেছে। অনেকে বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করছে। হাওরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। 
অভিযোগের বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের সুনামগঞ্জ জোনের ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, মোবাইল ফোনটি হাত থেকে বিকল হওয়ায় কয়েকদিন বন্ধ ছিলো। এখন ঠিক হয়েছে। নম্বর খোলা রয়েছে। আমরা ৮জন সদস্য রয়েছি। ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন বলে দাবি তার।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার