প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:২২
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জসহ সারা দেশে ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে বিগত সরকার। সেই সময়ে সরকারি ঘরের জামানতের কথা বলে ভূমিহীন ৩টি হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাসেল আহমদ ও আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
ইউপি সদস্য রাসেল আহমদ শিমুলবাক ইউনিয়নের মুক্তখাই গ্রামের খলিলুর রহমানের পুত্র এবং আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান একই গ্রামের মৃত ফজর আলীর পুত্র।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর আগে ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণের জন্য জামানতের কথা বলে ৭০ হাজার টাকা করে ৩টি হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং খরচ বাবদ আরও ৩ হাজার টাকা করে ৯ হাজার টাকা নেন ওই ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা। ঘর হস্তান্তরের দুই বছর পর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। হতদরিদ্র ৩টি পরিবারের কাছে ঘর ও দলিল হস্তান্তরের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তরা হতদদ্রি পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এখন পর্যন্ত ফেরত দেননি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো গালাগাল করছেন ইউপি সদস্য রাসেল আহমদ ও তার সহযোগি আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান।
ভূমিহীন ভুক্তভোগী মুক্তখাই গ্রামের ঝলক মিয়া বলেন, রাসেল আহমদ মেম্বার আমাদেরকে সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ৩ হাজার টাকা খরচ বাবদ নেয়। পরে সরকারি ঘর আমাদের নামে বরাদ্দ হয়েছে এবং ঘরের জামানত হিসেবে (সিকিউরিটি) ঘর প্রতি ৭০ হাজার টাকা দিতে বলে, এসময় টাকা দুই বছর পর ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। আমরা সরল বিশ্বাসে টাকা রাসেল আহমদ মেম্বার ও তার সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুরকে টাকা দেই। ঘর পাওয়ার দুই বছর পর আমাদের জামানতের টাকা ফেরত চাইলে তারা দেই দিচ্ছি বলে সময় নিতে থাকে। পরে উপজেলা সদরে সরকারি ঘর বাস্তবায়নকারী অফিসারের নিকট থেকে জানতে পারি, সরকারি ঘর আমাদেরকে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। এতে কোন জামানতের টাকা লাগে না। আমাদের টাকা ইউপি সদস্য রাসেল আহমদ ও আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান আত্মসাত করেছেন। এখন টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে টালবাহানা করছে।
ভূমিহীন ভুক্তভোগী মুক্তাখাই গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. রুফেদা বেগম বলেন, আমরা ভূমিহীন গরিব মানুষ। সরকারি ঘর দিবে বলে রাসেল মিয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুরকে আমি টাকা দিছি। সরকারি ঘর পেয়েছি, জামানতের টাকা ফেরত পাই নাই। পরে জানতে পারি, রাসেল মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর জামানতের কথা বলে আমাদের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাত করেছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাসেল আহমদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘর পাওয়া ব্যক্তিদের গোষ্ঠির স্বার্থে পূর্ব বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা রয়েছে। তাই তারা দীর্ঘদিন পর আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। তিনি বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের জন্য আমাকে কোনো টাকা দেওয়া হয় নি, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। অপর আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুকান্ত সাহা বলেন, শান্তিগঞ্জে মুজিব শতবর্ষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেলে সেটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন