ধর্মপাশায় মাদ্রাসা শিক্ষককে বয়কট

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:৩৯

ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের দেওয়ানগঞ্জ নূরুল কোরআন ক্বওমী মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আশরাফ আলীকে সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে বয়কট করেছেন স্থানীয় সম্মিলিত উলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। গত মঙ্গলবার সকালে একই ইউনিয়নের গাছতলা বাজার জামে মসজিদে এক জরুরি সভায় সংগঠনের পাইকুরাটি ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবুল বাশার ও সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক শামীমসহ ৬৫ জন উলামায়ে কেরাম লিখিতভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। তবে আশরাফ আলী দাবি করেছেন প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সংগঠনের উপজেলা শাখার সহ—সভাপতি হাফেজ ফজলুর রহমান, উপজেলা সাধারণ মাওলানা মোখলেছুর রহমান, সাহিত্য ও গবেষণা  বিষয়ক সম্পাদক মুফতি যোবায়ের আলম, মুফতি সাদ উদ্দিন, পাইকুরাটি ইউনিয়ন কমিটির সদস্য মাওলানা ইরফান, মাওলানা মিজানুর রহমান, মুফতি মুফিদ বিন আহমাদ, হাফেজ মাওলানা মোতাহার হোসেন, হাফেজ শামীম আহমাদসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়, অতীতে মুফতি আশরাফ আলীর দ্বারা অনেক ফিতনা ও আপত্তিকর ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তাই পাইকুরাটি ইউনিয়ন ও ধর্মপাশা উপজেলার উলামায়ে কেরাম দ্বিনি, সাংগঠনিক, তাবলিগ জামায়াত, মসজিদ মাদ্রাসা বা এলাকার মাহফিলে পোস্টার ও হেন্ডবিলে বা মৌখিকভাবে আশরাফ আলীকে কোনো দাওয়াত দেওয়া যাবে না। এমনকি আশরাফ আলীর সাথে উঠাবসা বা চা পান করা থেকেও স্থানীয় উলামায়ে কেরামেরা বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের মার্চে আশরাফ আলী বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ, যে কোনো সময়ে শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করা, শিক্ষকদের বেতন আত্মসাত, কাউকে হিসাব না দেওয়া, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে কায়িক পরিশ্রম ও শারীরিক সেবা গ্রহণের অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয়রা।
মুফতি আশরাফ আলী বলেন, আমার কোনো ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য বলতে পারতেন। তা না করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের অনেকেই আমার মাদ্রাসায় শিক্ষক হওয়ার জন্য চেষ্টা করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক হতে না পেরে জেদের বশবতীর্ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উপজেলা উলামায়ে পরিষদের সভাপতির অনুমতি ছাড়াই এমনটি হয়েছে। 
উপজেলা উলামায়ে পরিষদের সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা আমি জানতাম না। তবে জানার পর উলামায়ে কেরামদের সাথে বসে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।  
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার