প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:৪৯
আনাইজের (সবজি) বাজারে গেলে মাথা ঘুরায় ১ কেজি আনাইজের (সবজি) দাম ১০০/১৫০ টাকা। আমাদের কামাই সেই আগের মতোই বরং আগের চেয়ে আরো কমেছে কিন্তু চাউল, ডাইল, আলু, পিঁয়াজ, আটা, আনাইজের (সবজি) দাম গত কয়েকদিনে বেড়েছে দুনা (দ্বিগুণ)। এখন আমাদের তিনবেলা খেয়ে—পরে চলাই ঠেকা (মুশকিল) হয়ে পড়েছে। এখন গরীবের আর শান্তি নাই। উপরের কথাগুলো বুধবার দুপুর দুইটায় এ প্রতিবেদকের কাছে বলেছিলেন ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের লেবার (দিনমজুর) আলকাছ মিয়া।
বেলা আড়াইটায় ঘুঙ্গিয়ারগাঁও সবজি বাজারে ঢুকতেই চোখে পরে এক সবজি ব্যবসায়ী ও ষাটোর্ধ্ব ক্রেতার তকার্তর্কি। ক্রেতা বলছেন, গত পরশু একশ গ্রাম কাঁচামরিচের দাম রাখলি ৫০ টাকা, কিন্তু আজ চাচ্ছিস ৬০ টাকা। এটা কি মগের মুল্লোক নাকি ? আর সবজি বিক্রেতা বলছে, গত হাটে মাল লইছি ৪০০ টাকা কেজি দরে আর এই হাটে মাল লইছি ৫০০ টাকা কেজি দরে তাই আমাদের এই হপ্তায় ৬০০ টাকা কেজি দরেই বেচতে হবে। তোমাদের পোষাইলে নেও না হইলে না নেও। লোকসানে তো আর বেচতে পারব না। এই নিয়ে চলছিল ক্রেতা—বিক্রেতার তর্কাতর্কি।
কথা হয় সবজি বিক্রেতা হৃদয়, তপন, বিজয় রায়, কালীদাস, বিজয় এর সাথে। তাদেরও একই কথা আমাদের মাল লইতে হয় বেশি দামে, তাই বেচতে হয় বেশি দামে। সবজি সরজমিনে সবজি বাজার সহ অন্যান্য বাজার ঘুরে দেখা যায়— আলু ৭০ টাকা, কাকরুল ১২০ টাকা, মুখি ১০০ টাকা, গাজর ৩০০ টাকা, কাচামরিচ ৬০০/— টাকা, ঝিংগা ১৫০/— টাকা, টমেটো ৩০০/— টাকা, বেগুন ১৬০/— টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা, মুলা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও হাঁসের ডিম ৮০ টাকা, মোরগ দেশি ১২০ টাকা, মোরগ পোল্টি্র ৬০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়াও পেঁয়াজ ১২০ টাকা, সয়াবিন তেল খোলা ১৭০ টাকা ও খোলা সরিষা তৈল ২৬০ টাকা, মোটা চাউল ৪৫ টাকা ও চিকন চাউল ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আর গ্যাস বসুন্ধরা ১৫৭০ টাকা, গ্যাস ফ্রেশ ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিম বিক্রেতা পার্থ কে ডিমের এই বাড়তি দাম জিজ্ঞাস করতেই বলছে— আংকেল বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। কাস্টমারের একই প্রশ্ন এত দাম কিতা ? এই উত্তর দিতে দিতে মুখে ফেনা উঠে যায়। বর্তমানে ডিমের বেশি দামের কারণে আমাদের বিক্রিও কমে গেছে। কাস্টমারের কথা চিন্তা করলে আমাদেরও খারাপ লাগে।
কথা হয় দিন মজুর রুপচান শুক্লবৈদ্য ও সোমচাঁদ দাস (বাশী) এর সাথে ভাইরে ভাই জিনিসের দামের কথা বলে আর লাভ নাই। কোন জিনিস ঠেলায় করে ঘাটে ও বাসায় পৌঁছাইয়া দিতে আগে আমাদের যে টেকা দিত এখনও তাই দেয়। আমাদের কামাই তো আর বাড়ে নাই। কিন্তু বাজারে গেলে তো জিনিসের দাম হুইন্না তো মাথা ঘুরায়। চাউল, আনাইজের দাম এমন হইলে আমরা বাঁচমো কেমনে।
চাউল ব্যবসায়ী কৃষ্ণপদ দাশ বলেন, চাউলের মধ্যে মোটা চাউলের দাম সামান্য বেড়েছে কিন্তু চিকন চাউল (যেমন ২৮, ২৯) এর দাম গত সপ্তাহ থেকে এই সপ্তাহে ৫০ কেজির বস্তা প্রতি ২০০/২৫০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যে চাউল লইছি ২৮০০ টাকা আর বিক্রি করেছি ৩০০০ টাকা। এই সপ্তাহে মাল লাইছ ৩০০০ টাকা আর বিক্রি করছি ৩২০০ টাকা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন