প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:২৬
সাহসী, বিনয়ী, বিপ্লবী। যুব রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট মইনুদ্দিন আহমদ জালাল জীবদ্দশায় এভাবেই সম্মোহিত হতেন। ছিলেন অসা¤প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত এক কর্মী। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক নদী অধিকার বিষয়ক সংগঠন অঙ্গীকার বাংলাদেশের পরিচালক ছিলেন। আইন পেশায় তিনি সিলেট ও সুনামগঞ্জ বারের সদস্য ছিলেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুব—আন্দোলনেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। পৃথিবীর ৩২টি দেশে ৬২টি আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন।
অ্যাডভোকেট মইনুদ্দিন আহমদ জালালের অকালমৃত্যুতে দেশে ও বিদেশে শোক ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৯ সালে তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সাংবাদিক উজ্জ্বল মেহেদীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত ‘দেখবো তোমারে...’ তথ্যচিত্রে তার কর্মময় জীবন তুলে ধরা হয়। তথ্যচিত্রটি ২০২০ সালে ইউটিউবে আপলোড করা হয়।
অকালে আরেক প্রয়াতজন বাংলাদেশের জোছনাবাদী কবি ও জনপ্রতিনিধি মমিনুল মউজদীন। সাংবাদিক উজ্জ্বল মেহেদী রচিত গ্রন্থ ‘জলজোছনার জলোপাখ্যান/ মউজ, মজে মউজ’। ফিকশন বা কল্পসাহিত্যের বইটিতে আছে অনেক বাস্তব ঘটনা। বইটির ২৪ অনুচ্ছেদের ৮১ পৃষ্ঠায় রয়েছে অকালপ্রয়াত যুব রাজনীতিবিদ মইনুদ্দিন আহমদ জালাল প্রসঙ্গ। ‘হিমালয়ান জালাল’ হিসেবে চিত্রিত। বাস্তব ঘটনার ফিকশন রূপটি সেই গ্রন্থ থেকে হুবুহু প্রকাশ করা হলো। —সু.খবর ডেস্ক

‘হিমালয়ান’ জালাল
‘সংযত ও সুসংহত থাকতে চাওয়ায় যুবরাজনীতিবিদ মইনুদ্দিন আহমদ জালালের সঙ্গে কথা বলেন মউজদীন। সিলেট—ঢাকায় প্রগতিশীল রাজনীতির একজন নেপথ্যচারী জালাল। বিপদ—বিষাদে, দুর্দিন—দুঃসময়ে দুর্দান্তরূপে পাশে দাঁড়ানোর স্বভাব। মউজদীন ফোনে যোগাযোগ করতেই জালালের কণ্ঠে বিষ্ময়—
—মউজদীন ভাই! সব পালটে গেছে মনে হয়। নাহিদ ভাইয়ের মতো নেতাকে সরিয়ে এমন একজনকে মনোনয়ন তালিকায় রাখা হয়েছে, যে কি না বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত বদলে দিতে চায়।
: কী বলো! এখন কী করবো, কী করার আছে জালাল?
—করার তো একটাই আছে এখন।
: কী?
—দাঁড়াতে হবে। দলনিরপেক্ষ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে।
কথা ও কাজে একাগ্র জালাল। কোনো ছলা—কলা নেই। জলে স্থলে, যে কোনো জায়গায়, যে কোনো কাজে জড়ালেই জ্বলে থাকার স্বভাব। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি। নাবিকের মতো মন। মানবিক। প্রগতিশীল যুবরাজনীতির যুব ইউনিয়নের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বে আসীন একই মর্যাদায়। বিশ্ব যুব উৎসবে উদ্ভাসিত হওয়ার নেশায় পৃথিবীর পথে পা বাড়ানো তার বিরল শখ। ‘আই হেভ নট সিন দ্য হিমালয়স, আই হেভ সিন শেখ মুজিব’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিখ্যাত এই উক্তিটির জন্য এক যুব উৎসবে যোগ দিতে জালালের গন্তব্য কিউবা। ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে দেখা করে হাত মিলিয়ে জালাল বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু নামটি নিতেই বিশ্বনেতার মুখে আরেক উদ্দীপক উক্তি—‘হিমালয়ান ইয়থ’!
জালাল প্রসঙ্গ এলে ছবির মতো এসব কথা মনে ভাসে মউজদীনের। একদিকে চারদলীয় জোট আরেকদিকে ৭ দল—১৫ দল থেকে বড় রকমের ভোটের জোট গড়ার তৎপরতা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। ভোটে—জোটে নানা মেরুকরণ। মউজদীনকে জালালের পরামর্শ, স্বতন্ত্র লড়ে দেখিয়ে দেওয়া, নৌকা ছাড়াই বৈঠা বাওয়া।
মউজদীনের মনে মউজ। জনতা আর কবিতা। ভিত্তি এই দুই শক্তি। হৃদয় গাঙে বৈঠা বাওয়ার বদলে উজান গাঙে বয়ে চলা।’
[...]
সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন