প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:৫৬
মানসিক ভারসাম্যহীন নাম পরিচয়হীন একব্যক্তি। যিনি সুনামগঞ্জ আদালত এলাকার সামনের সড়কের একপাশে কয়েকমাস ধরে অবস্থান নিয়েছেন। শহরের ব্যস্ততম সড়কে এই ব্যক্তির অবস্থান হওয়ায় দুর্ঘটনার আশংকা ছিলো। সম্প্রতি এই ব্যক্তির দু’পাশে দুটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। লেখা হয়েছে, ধীরে চলুন, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। এই উদ্যোগটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি তাকে পুনর্বাসন সংস্থায় স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তির পরিচয় জানে না কেউ। গত কয়েকমাস ধরে সুনামগঞ্জ আদালত এলাকার সামনের সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের একপাশে অবস্থান তার। ব্যস্ততম সড়ক হওয়ায় আশপাশের লোকজন কয়েকবার তাকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দিয়ে আসলেও বার বারই এখানে এসে অবস্থান নেন এই ব্যক্তি। এজন্য সম্প্রতি ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তিকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষার জন্য দু’পাশে দুটি লোহার ভাসমান স্ট্যান্ড বসিয়ে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। যেখানে লেখা আছে, ধীরে চলুন, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। ইংরেজিতেও লেখা আছে, mentally disabled individual. কারা এই সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন জানেন না জেলা সমাজসেবা অফিস এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তিকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে এরকম মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তারা বলছেন, ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তির দু’পাশে সাইনবোর্ড না লাগালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিলো। যারা এমন কাজ করেছেন, মহানুভব ব্যক্তি, ভীষণ মানবিক মানুষ।
কাজী মোহাম্মদ সোহেল নামের একজন পথচারী বললেন, পাগলদের কোনো ঠিকানা নেই। এই ব্যক্তিকে অন্য জায়গায় দিয়ে আসলেও এখানে আবার চলে আসেন। যারা সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন ভালো কাজ করেছেন। নয়তো দুর্ঘটনার সম্মুখিন হতেন তিনি। বর্তমান সরকারের কাছে আহ্বান, এরকম ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের দেখভালের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। এটির উদ্যোগ তারা নেবেন।
তহুর আলম নামের আরেক ব্যক্তি বললেন, পাগলদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। সমাজ থেকেও তারা বিতারিত। সব পাগলদের রাস্তাঘাটে দেখা যায়। রাস্তায় থাকা এই পাগলকে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, এটি খুব ভালো কাজ। অন্য কোথাও এরকম সাইনবোর্ড লাগাতে দেখি নি।
সুনামগঞ্জের ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর মো. মুহিবুল ইসলাম বললেন, এই লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন। মানবিক বিবেচনায় আমরাও দেখাশুনা করছি। শহরের ব্যস্ততম সড়ক এটি। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য তার দু’পাশে দুটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এটি কারা করেছেন জানি না, তবে যারাই করেছেন খুব ভালো কাজ করেছেন। এই এলাকায় যানজট যেনো না লাগে, সেদিকেও নজর রেখেছি আমরা।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. শেরেনুর আলী বললেন, ওই ব্যক্তিকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দিলে সে আবারও এখানে চলে আসে। সাইনবোর্ড লাগিয়ে যারা মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তাদের আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই।
তিনি বললেন, এই ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেক মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। এজন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করবো, ওইব্যক্তিকে পুনর্বাসন সংস্থায় স্থানান্তর করার জন্য।
জেলা সমাজ সেবাসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুচিত্রা রায় বললেন, বয়স্ক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের নিয়ে আমাদের সরাসরি কোনো কাজ নেই। ছোট প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ রযেছে আমাদের। বয়স্কদের জন্য নেই। তবে ভবঘুরে মানুষদের জন্য ঢাকায় আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেই আমরা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন