প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:৫৯
দ্বিগুণ লাভের আশায় জামালগঞ্জ উপজেলার অনেক কৃষক আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেন প্রতি বছর। এবার সবজির বাজার অনেক চড়া। আর চড়া বাজারে আরও বেশী লাভের আশায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা।
উপজেলার কালাগুজা, কাশীপুর, সংবাদপুর, ভুতিয়ারপুর, সুজাতপুর, রামপুর গ্রামের কৃষকেরা শীতকালীন ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, টমেটো, লালশাক, পুঁইশাক চাষ করছেন। শীতকালীন সবজি চারার জন্য বিখ্যাত মন্নানঘাট এলাকায় কৃষকরা শীতকালীন সবজির চারা সেডে তৈরি করে নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাজারে বিক্রি করেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জামালগঞ্জে প্রতি বছর শীতকালীন সবজির ভালো ফলন হয়। এবছর সেডে চারা ভালো হয়েছে। শীত আসার আগেই আগাম সবজি চাষ করেছেন চাষীরা। এবছর এই উপজেলায় অনেক কৃষক জমিতে শীতকালীন আগাম সবজি চাষ করেছেন।
সবজি’র এলাকা হিসেবে পরিচিত জামালগঞ্জের কালাগুজা গ্রামের মো. মোস্তফা মিয়া প্রতিবছর আগাম সবজি চাষ করেন। এবছর সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, ফুলকপির চারা রোপণ করেছি। পরিপূর্ণ হতে মাসখানেক সময় লাগবে। আগাম সবজি চাষ কষ্টসাধ্য হলেও দ্বিগুণ লাভ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে লাভও বেশি হবে বলে জানান তিনি।
কাশীপুর গ্রামের কৃষক ইয়ার আলী জানান, তিনি প্রত্যেক শীতে তিনবার শীতকালীন সবজি চাষ করেন। চারা থেকে বাজারে তোলার উপযোগী করে তুলতে ২ মাস সময় লাগে। ইতোমধ্যে ১৫ শতক জমিতে ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন। ফুলকপির পর চিচিংগা ও টমেটো চাষ করবেন।
তিনি আরও জানান, শীতকালীন সবজি বাজারে যত আগে আসবে, তারা তত বেশী লাভবান হবেন।
কৃষক সামছু মিয়া ও আলাল উদ্দিন জানান, তাদের জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সবজি বাজারে তুলতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, অনেক কৃষক বেশী লাভের আশায় আগাম সবজি চাষ করেন। এই উপজেলায় মৌসুম শুরুর আগেই সবজি চাষ করে থাকে কৃষকেরা। সাধারণত কার্তিক মাসে শীতকালীন সবজির চাষ শুরু হয়। কিন্তু এখানে কিছু কিছু সবজি স্থানীয়ভাবে বাজারে আসতে শুরু করেছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন