প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৪ ২০:০২
দীর্ঘ একযুগ পর আজ মঙ্গলবার জন্মস্থানে আসছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কয়ছর এম আহমদ। তাঁর এই আগমনে উচ্ছ্বাসে ভাসছে জগন্নাথপুরের বিএনপি পরিবারের নেতাকর্মীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুইটার দিকে স্থানীয় পৌর পয়েন্টে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দলের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে যুক্তরাজ্য বিএনপির টানা তিনবারের সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমদ যোগদান করবেন। তাঁর সঙ্গে থাকা যুক্তরাজ্য বিএনপির ১১৫ জন নেতাকর্মীসহ কেন্দ্রীয়. সিলেট ও জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠান সফল করতে গত কয়েকদিন ধরে দলীয় নেতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। উপজেলা থেকে শুরু থেক প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে সভা, সমাবেশ, প্রচার প্রচারণায় অংশ নেন দলীয় কর্মী সমর্থকরা।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্মরণকালের এক ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যা এর আগে জগন্নাথপুরের ইতিহাসে কেউ করেননি। স্টেডিয়ামের আদলে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। মঞ্চে অতিথিদের জন্য ১৬০ টি আসন নির্ধারিত থাকবে।
বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, জগন্নাথপুর পৌর শহরের ছিলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক যুক্তরাজ্য বিএনপির সফল সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ গত এক যুগ ধরে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা হামলার কারণে দেশে আসতে পারেন নি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন হওয়ায় তিনি দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। বুধবার ৭৭ নেতাকর্মীকে সফরসঙ্গী করে যুক্তরাজ্য থেকে সৌদিআরবে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে রোববার সকালে হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তাঁরা। একই এসময়ে যুক্তরাজ্য থেকে আসা আরও ৩৮ নেতাকর্মী তাদের সঙ্গে এসে যোগ দেন। সোমবার দুপুরে কয়ছর আহমদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। আজ বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে আকাশপথে সিলেট ওসমানি বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন। দুপুরে প্রায় পাঁচ শতাধিক গাড়ী বহন নিয়ে জগন্নাথপুরে আসবেন। তাদের বরণ করতে নানা প্রস্তুুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ উদ্দিপনা বিরাজ করছে।
উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মামুনুর রশিদ মামুন জানান, ৯০ দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা কয়ছর আহমদ আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক। তাঁর আগমনে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জের মানুষের মধ্যে উৎসবের জোয়ার বইছে।
পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ জানান, দীর্ঘদিন পর জগন্নাথপুরের কৃতিসন্তান আমাদের মধ্যে আসছেন। তাঁর আগমনে আমরা আনন্দিত। তিনি শুধু জগন্নাথপুরের নয়, তিনি পুরো জেলার বিএনপি পরিবারের গৌরব।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল হাসিম ডালিম জানান, ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে গায়েবি মামলা হামলার কারণে নানা প্রতিবন্ধতায় সৃষ্টি করা হয়েছে। বিএনপির দু:সময়ে নেতাকর্মীদের মনে সাহস যোগাতেন নতুন প্রজন্মের এই জনপ্রিয় নেতা। তাঁর প্রত্যাবর্তনে জগন্নাথপুর তথা জেলাজুড়ে আনন্দের ঢেউ বইছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এম. এ মুকিত ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা কয়ছর এম আহমদ। আগামী দিনের বিএনপির কান্ডারি। তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে আসা সকল নেতাকর্মীদের বরণ করতে আমরা প্রস্তুুত। হাওরাঞ্চলে প্রথমবারের মতো এক ঐতিহাসিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছি আমরা। অনুষ্ঠান সফল করতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।
গণসংবর্ধনা বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন সুহেল জানান, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এখন নতুন এক বাংলাদেশে আমরা। মামলা হামলা আর জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে কয়ছর আহমদসহ অসংখ্যা নেতাকর্মী নিজ জন্মভূমিতে আসতে পারেননি। ফ্যাসিবাদ মুক্ত দেশে তাঁদের স্বাগত জানাতে বিএনপি ও ছাত্র-জনতা প্রস্তুুত।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে কয়ছর এম আহমেদ জগন্নাথপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহবায়ক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের হাতে ছাত্রদল নেতা হাফিজ নিহত হন। এরপর রাজনৈতিক হয়রানিতে তিনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্য চলে যান। সেখানে গিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। টানা তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ২০১২ সালে তিনি দেশে এসেছিলেন। এরপর হামলা, মামলা ও নিরাপত্তাহীনতায় তিনি আর দেশে আসেন নি। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক মামলা করা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথেও তিনি বেশ কয়েকটি মামলার এজাহার নামীয় আসামী। শুধু মামলাই নয়, বিএনপির ওই নেতার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় সিলেটের জিন্দাবাজারস্থ ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্টটি। গ্রামের বাড়িতেও অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছিল। একারণে পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ২০১৫ সালে কয়ছরের মা এবং ২০১৮ সালে ছোট ভাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। এরপর ওই পরিবারের কেউ আর দেশে আসেননি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন