নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি  

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:২৪

সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ইজারাবিহীন ধোপাজাননদী এবং তাহিরপুর উপজেলার ইজারাকৃত জাদুকাটা নদী বালু মহালে অবৈধভাবে ড্রেজার/বোমা মেশিন/খনন যন্ত্র দিয়ে নদীর সীমার বাইরের পাড় কেটে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।  মঙ্গলবার সকালে সিলেট বিভাগীয় কশিশনার ও সিলেট রেঞ্জের উপ—মহা পুলিশ পরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। 
স্মারকিলিপিতে পরিবেশ ও জনসাধারণের সম্পদ রক্ষায় অনতিবিলম্বে সিন্ডিকেট সদস্যদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, ধোপাজান এবং যাদুকাটা নদীতে জবাবদিহিমূলক স্থায়ী ভাসমান পুলিশ ক্যাম্প বা ফাঁড়ি স্থাপন ও প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়। 
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি একে এম আবু নাছারের নেতৃত্বে চার সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ—সভাপতি গোলাম রাব্বনী, সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ফজলুল করিম সাঈদ ও আমিনুল ইসলাম।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়— ইজারাকৃত যাদুকাটা বালু মহাল এবং গত দুই মাস যাবৎ ইজারাবিহীন ধোপাজান নদীতে ড্রেজার/বোমা মেশিন/খনন যন্ত্র ব্যবহার করে নদীর সীমানার বাইরে পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছে। এতে উভয় নদীর তীরের পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং জনসাধারণের সম্পদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। পাড় কেটে বালু উত্তোলনের কারণে বর্তমানে ধোপাজান এবং যাদুকাটা নদীর প্রন্থ ও গভীরতা সাগর সদৃশ মনে হলেও থেমে নেই বালুখেকো অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলন। 
উল্লেখ্য, নদীর মধ্যে বালু না থাকায় পাড় কেটে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং পরিবেশ ও মানুষের সম্পদ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে ধোপাজান পাথর মিশ্রিত বালু মহাল বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। 
এদিকে সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে বারবার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট মৌখিকভাবে এবং স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়। এছাড়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচিও পালন করা হয়। জেলা প্রশাসক মহোদয় এবং পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বস্তও করেন। মাঝে—মধ্যে মোবাইল কোর্ট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কিছু কিছু বালু বোঝাই নৌকা (বাল্কহেড) জব্দ করা হয়। কিন্তু পুরোপুরি স্থায়ীভাবে অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ করার আন্তরিক প্রচেষ্টা আমাদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। 
গত ৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদীতে বালু পাথর উত্তোলন এবং পরিবহনে ব্যবহৃত বাল্কহেড নৌকা সহ সকল জলযান প্রবেশ বা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়। কিন্তু ধোপাজান নদী ও সুরমা নদীর সংযোগস্থলে অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি থাকা অবস্থায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে বিনা বাধায় দিনের বেলায় বালুবাহী নৌকা প্রবেশ করছে এবং প্রতিদিন ৫—৭ কোটি টাকা মূল্যের চুরি করা বালু শতশত ছোট বড় বাল্কহেড বালু—পাথর নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নৌকাগুলো আটক বা জব্ধ করা হয় না। 
মাঝে—মাঝে লোক দেখানো কিছু কিছু বালু বোঝাই নৌকা জব্ধ করা হয় যা নিতান্তই হাস্যকর। বালু খেকো দুর্বৃত্তরা সিন্ডিকেট তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যোগসাজসে অপকর্মের মাধ্যমে পরিবেশ ও জনসাধারনের সম্পদ বিনষ্ট করে রাতারাতি একেকজন অবৈধ কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়ছে। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবার দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার