সমন্বয়হীনতায় তৎপরতা নেই ফায়ার সার্ভিসের

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৩ ০৭:৩৬

তাহিরপুর উপজেলায় হাওরে নৌকা ডুবে দুইজন নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পার হলেও উদ্ধারে অভিযানে নেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল। নিখোঁজ দুইজনকে উদ্ধারে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে তাহিরপুর থানা পুলিশ। সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সহ প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল ও উদ্ধারকর্মী থাকলেও ফায়ার সার্ভিসের কাছে পুলিশ বা স্থানীয় কেউ তথ্য দিয়ে উদ্ধারের সাহায্য চায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। নিখোঁজের পর রাতে একবার ফোন করার পর আরেকবার কেন ফোন করবেন এমন প্রশ্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। এদিকে দুর্ঘটনার তথ্য জানতে ভোরে থানার ডিউটি অফিসারকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ফোন দিলে তিনি কোনো তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন এমনটা দাবি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স তাহিরপুর স্টেশন কর্মকর্তার।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পরে রাতেই তাহিরপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তাকে দুইজন নিখোঁজের বিষয়টি অবগত করেছি। উনারা বলছেন, সকালে উদ্ধার অভিযানে ডুবুরি দল পাঠাবেন। একবার জানানোর পর আমার কি আর... ভিকটিমকে উদ্ধার করা দরকার, না—কি তাদের সাথে কথা বলা দরকার। আমাদের পুলিশকে কেউ একবার জানালেই আমরা আমাদের কাজে লেগে যাই। উনাদের একবার জানানোর পর উনারা উনাদের কাজ দায়িত্ব নিয়ে করার কথা।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে স্থানীয়রা এবং পুলিশ মিলে নিখোঁজ দুইজনকে  উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন। বিকেলে ৫ টা পর্যন্ত সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কাউকে দেখা যায়নি। নিখোঁজ দুজনের কাউকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে তাহিরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মো. চাঁন মিয়া বলেন, ওসি সাহেব রাতে আমাকে ফোন দিয়ে শুধু দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানিয়েছেন। এরপর নিখোঁজদের পরিবারের সাথে কথা বলে আমাদের উদ্ধার অভিযানে ডুবুরি দল যাবে কি না সেটা জানানোর কথা। উনি কিছুই জানাননি। ভোরে আমি নিজ থেকে থানার ডিউটি অফিসারকে ফোন দিলাম দুর্ঘটনার তথ্য জানতে। ডিউটি অফিসার আমাকে কোন তথ্য জানেন না বলে জানান। তারপরও আমি সদরে ডুবুরি দলের জন্য কথা বলে রেখেছি, কিন্তু পুলিশ সহ কেউ আমাদের কাছে সাহায্য চায়নি, কোন তথ্যও দেয়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সুনামগঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা নিউটন দাশ বলেন, উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য কেউ সাহায্য চায়নি। কেউ আমাদেরকে কিছু জানায়নি। একটা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে কোথায় কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, কয়জন নিখোঁজ আছেন, ঘটনাস্থল পর্যন্ত যেতে গাড়ির বাইরে যদি নৌকা লাগে সেটা কীভাবে পাব এসব বিষয় জানাতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। পুলিশ বা কেউ একজন দায়িত্ব নিয়ে থাকতে হয়। স্থানীয় প্রশাসন বা মানুষের সহযোগিতা লাগে। আমরা কিছুই পাইনি। এতো বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটলো, ফায়ার সার্ভিসকে কেউ জানানোরও প্রয়োজন মনে করেনি। বরং দুর্ঘটনার তথ্য জেনে সাহায্য করতে আমাদের অফিসার উল্টো থানাতে ফোন করেও কোনো তথ্য পান নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সুনামগঞ্জের উপ সহকারী পরিচালক মো তারেক হাসান ভূইয়াঁর সাথে সোমবার বিকেলে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, তাহিরপুরের দুর্ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আপনার কাছ থেকে শুনলাম।  মধ্যনগরেও গতকাল রাতে একটি নৌ দুর্ঘটনার পর সুনামগঞ্জ থেকে  মধ্যনগর যেতে সময় বেশি লাগবে তাই ময়মনসিংহ থেকে ডুবুরি দল এনে একজনকে উদ্ধার করেছি। তাহিরপুরের খবর পেলেও সেখানে উদ্ধারকারী দল যেত। আমি এখনই কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
কথা বলার কিছুক্ষণ পর এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলের পথে রওনা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তাহিরপুর সদর থেকে নৌকা করে নিজে বাড়ি ফেরার পথে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে ফয়েজ মিয়া (৪০), একই গ্রামের মছরব আলীর ছেলে শাহ আলমের (৩৫) নৌকা ডুবে, তারা দুজন নিখোঁজ হন। উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মাটিয়ান হাওরের বোয়ালমার স্লুইস গেট এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
 


 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার